রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) সুলতানুল ইসলাম তারেকের দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে। শেষ দিন দলীয় সিদ্ধান্তে সুলতানুল ইসলাম তারেক মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেও ছিলেন না ভোটের মাঠে। অবশেষে তিনি অভিমান ভুলে ধানের শীষের মঞ্চে এসেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার গোদাগাড়ী উপজেলা সদরে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী পথসভায় যোগ দেন অ্যাডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেক। বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও অনুসারীদের উপস্থিতিতে পথসভাটি বিশাল সমাবেশে রূপ নেয়।
এ সময় শরীফ উদ্দীন ও তারেক ধানের শীষ উঁচু করে ধরে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে থাকার অঙ্গীকার করেন।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন বলেন, বিএনপি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। দলের ভেতরে প্রতিযোগিতা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু দলের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
মান-অভিমান ভুলে ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে এক কাতারে আসার আহ্বান জানিয়ে শরীফ উদ্দীন বলেন, দলের প্রয়োজনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে বিএনপি নেতা-কর্মীরা প্রস্তুত।
জানা যায়, রাজশাহী-১ আসনে পরপর তিনবার বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর ভাই শরীফ উদ্দীন দলীয় মনোনয়ন পান।
আসনটিতে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন, শিল্পপতি সুলতানুল ইসলাম তারেক, সাজেদুর রহমান মার্কনি, অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বিপ্লব, ইঞ্জিনিয়ার কে এম জুয়েল ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী অধ্যাপক শাহাদৎ হোসেন শাহীন।
মনোনয়নকে কেন্দ্র করে এই আসনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা একাধিক উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েন। সেই বিভক্তি রক্তক্ষয়ী সংঘাত পর্যন্ত গড়ায়, ঘটেছিল প্রাণহানির ঘটনাও। তবে ঐক্য প্রতিষ্ঠার পর দলটির নেতা-কর্মীরা এখন এই আসনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।