অবশেষে জামিনে মুক্ত হলেন রাজবাড়ী জেলা মহিলা দলের নেত্রী সোনিয়া আক্তার স্মৃতি। ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তির অভিযোগে করা এক মামলায় তাঁকে গত অক্টোবরে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপরে কাগজ পৌঁছানোর পর সন্ধ্যার দিকে তিনি জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান। এ সময় জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।
গত ১৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ তাঁকে হাইকোর্টের দেওয়া ছয় মাসের জামিন বহাল রাখেন।
সোনিয়া আক্তার স্মৃতি রাজবাড়ী পৌরসভার ৩ নম্বর বেড়াডাঙ্গা এলাকার প্রবাসী মো. খোকনের স্ত্রী। তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘রাজবাড়ী ব্লাড ডোনার্স ক্লাবে’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এ জন্য তিনি জেলায় ‘রক্তকন্যা’ বলে পরিচিত।
গত বছরের ১১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন স্মৃতি। সেই পোস্টের জেরে গত বছরের ৪ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন জেলা বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সদস্যসচিব আরিফিন চৌধুরী। ওই দিনই গভীর রাতে রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দার বেড়াডাঙ্গার ভাড়া বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন আদালত হাজির করলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠান। এরপর হাইকোর্টে জামিন আবেদন গত বছরের ৩১ অক্টোবর তাঁকে ছয় মাসের জামিন দেন উচ্চ আদালত। পরে রাষ্ট্রপক্ষ সেই আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করলে চেম্বার আদালত সেই জামিন স্থগিত করে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ বেঞ্চ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন।
সোনিয়া আক্তার স্মৃতির আইনজীবী নেকবার মনি জানান, সোনিয়া আক্তার স্মৃতির জামিনের কাগজপত্র আজ দুপুরে রাজবাড়ী জেলা কারাগারে এসে পৌঁছায়। এরপর তাঁকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সোনিয়ার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলায় আদালত জামিন দিয়েছেন।
জামিন আদেশের এত পর মুক্তি দেওয়ার কারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজবাড়ী জেলা কারাগারের জেলার হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘সোনিয়া আক্তার স্মৃতির জামিনের কাগজপত্র আজ দুপরে এসে পৌঁছায়। এরপর সন্ধ্যার দিকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।’