‘কথা বলার সময় নেই ফেরিতে উঠতেই হবে। আজ ঢাকায় না পৌঁছালে চাকরি থাকবে না। গতকাল বাস চলাচল না করায় যেতে পারি নাই। আজ বাস চললেও জায়গা পাই নাই। তাই মাহেন্দ্র গাড়িতে ৬০০ টাকা ভাড়া দিয়ে ঘাটে এসেছি।’ আজ রোববার দুপুরে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পাঁচ নম্বর ফেরি ঘাটে কথাগুলো বলছিলেন বরিশাল থেকে ঢাকামুখী আয়নাল সরদার।
চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা রুবিনা জানান, আজ যেভাবেই হোক তাঁকে ঢাকা যেতেই হবে। শনিবার গার্মেন্টস খুলছে। বাস না চলায় যেতে পারেননি। সকালে বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে বাস পেলেও সিট পাননি। তাই ট্রাকে উঠে ঘাটে এসেছেন। খুবই ভোগান্তিতে আছেন বলে জানান তিনি।
আজ দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘাট এলাকায় তিন কিলোমিটার যানজট। এরই মধ্যে যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস। সেই সঙ্গে ছিল যাত্রীদের চাপ। গণপরিবহন চলাচল করলেও তার সংখ্যা ছিল অনেক কম। যে কারণে অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে ছুটছে গন্তব্যস্থলে। সে ক্ষেত্রে কয়েক গুন বেশি ভাড়াও লাগছে। সকাল ৯টার পর থেকে কমতে থাকে যানবাহনের সারি। যানবাহনের চাপ কমলেও থেকে যায় যাত্রীদের চাপ। সেই চাপ অব্যাহত থাকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে পাটুরিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ফেরি এবং লঞ্চে যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই পারাপার হতে দেখা গেছে। অনেক যাত্রীর মুখে ছিল না মাস্ক। তবে বিকেল ৪টার পর থেকে কমতে থাকে যাত্রীর চাপ।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক মজিবুর রহমান জানায়, গণপরিবহন চালুর পর থেকেই ঘাট এলাকায় চাপ রয়েছে। তবে যানবাহন গুলিকে বেশি সময় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না। এই রুটে ছোট বড় মিলে ১৫টি ফেরি চলাচল করছে বলে জানান তিনি।