রাজবাড়ীতে পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে ২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অথচ আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ অবস্থায় পানিবন্দী বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বন্যার পানি নেমে যাবে। না হলে পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের ৬ নম্বর কাঠুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মা নদী থেকে মাত্র ২০ ফুট দূরে দুতলা বিশিষ্ট বিদ্যালয়ের অবস্থান। পদ্মার পানি বাড়ায় বিদ্যালয়ের চারপাশ দিয়ে পানি ঢুকছে। মাঠে হাঁটু পানি। নিচতলা সাইক্লোন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার হওয়া বিদ্যালয়টির দুতলায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক বিপ্লব কুমার দাশ বলেন, বিদ্যালয়ে বন্যার পানি উঠেছে। তবে পানি কমতে শুরু করায় তাঁরা আশা করছেন নির্ধারিত দিন থেকেই ক্লাস শুরু করতে পারবেন। শ্রেণিকক্ষ দ্বিতীয় তলায়। নিচতলায় শুধু প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাস হয়। সরকারিভাবে এই শ্রেণির পাঠদান শুরুর নির্দেশনা এখনো আসেনি।
একই অবস্থা মিজানপুর ইউনিয়নের চর সিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। বন্যার পানি এমনকি এর শ্রেণিকক্ষেও ঢুকে পড়েছে।
গোপালবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু বন্যার পানির কারণে সংশয় রয়েই যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের চারপাশে পানি উঠে গেছে। তিনি বলেন, ‘এ পরিস্থিতির মধ্যেই আমরা বিদ্যালয়ের আশপাশ ও শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু করেছি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ৪১৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রয়েছে। এর মধ্যে ২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে ইয়াসমীন করিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, জেলার ২১টি বিদ্যালয়ে বন্যার পানি উঠেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বন্যার পানি নেমে গেলে ক্লাস শুরু হবে। না হলে পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।