ঈদুল আজহা উপলক্ষে সড়কপথে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সারা দেশে মোবাইল কোর্টের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানান সড়ক পরিবহন, সেতু ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চালকের অদক্ষতা, অসচেতনতা ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের কারণেই অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে।
আজ রোববার রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ আয়োজিত সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মাঝে চেক বিতরণ এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, গত ঈদুল ফিতরে সারা দেশে ২৫টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হলেও এবার ঈদুল আজহায় সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৯টি করা হচ্ছে। বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে এসব মোবাইল কোর্ট কাজ করবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি থাকবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, টার্মিনাল থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ কম থাকলেও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিয়ে গাড়িতে ওঠায় তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনার কারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, চালকদের স্বেচ্ছাচারিতা, জনগণের অসচেতনতা এবং একই সড়কে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চলাচল দুর্ঘটনা বাড়ার অন্যতম কারণ। দুর্ঘটনা কমাতে সরকার প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
শেখ রবিউল আলম বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় চালকদের প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চোখ ও রক্তচাপ পরীক্ষা, মাদকাসক্তি শনাক্তকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। দক্ষ চালক তৈরি ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় পরিবহনের ত্রুটি ও চালকের গাফিলতির বিষয়টিও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। পরে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের দুর্ঘটনায় নিহত ২৪ জনের পরিবারসহ জেলার বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মোট ৬২টি পরিবারের মাঝে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।