পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় নিখোঁজের সাত দিন পর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় খাল থেকে মো. নজির ফরাজি নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ রোববার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে উপজেলার বেতাগীসানকিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর বেতাগী গ্রামের একটি খালে কচুরিপানার মধ্য থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
উদ্ধার ব্যক্তি হলেন বেতাগীসানকিপুর ইউনিয়নের বেতাগী গ্রামের আবদুল খালেক ফরাজির ছেলে।
হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, উপজেলার বেতাগীসানকিপুর ইউনিয়নের বেতাগী খালে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পটুয়াখালী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নজির ফরাজি মাঝেমধ্যে ঘরে কাউকে কিছু না বলে চলে যান, আবার ফিরে আসেন। ২৫ মে সকালে ঘর থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে বন্ধু ও আত্মীয়দের কাছে খোঁজ নিয়েও পাওয়া যায়নি। আজ বিকেলে এলাকার লোকজন দেখতে পান—বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত খালে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক মরদেহ ভেসে আছে। পরে দশমিনা থানা-পুলিশে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করলে নিহত নজিরের ভাই মো. রাসেল লাশ শনাক্ত করেন।
রাসেল বলেন, ‘নজির আমার ভাই। ২৫ মে সকালে ঘর থেকে বের হয়। এ রকম মাঝেমধ্যে কোথাও না বলে চলে যায়, আবার ফিরে আসে। এ জন্য আমরা বেশি চিন্তিত ছিলাম না। তারপরও ওর বন্ধু ও কিছু আত্মীয়র কাছে খোঁজ করি। আজ আমাদের বাড়ির কিছুটা দূরে একটি খালের কচুরিপানা থেকে হাত-পা বাঁধা যুবকের মরদেহ ভাসতে দেখার খবর পেয়ে আমিও সেখানে যাই। লোকজন সাহস করে মরদেহের কাছে যায় না। পরে দশমিনা থানা-পুলিশ এসে মরদেহ কচুরির খাল থেকে উদ্ধার করে রাস্তার ওপর রাখলে দেখি আমার ভাই নজির ফরাজি। সাত দিন নিখোঁজ হওয়ার পর আজ ভাইকে হাত-পা বাঁধা মৃত অবস্থায় পেলাম। কেউ আমার ভাইকে হাত-পা বেঁধে পরিত্যক্ত খালের পানিতে ফেলে মেরেছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর বিচার চাই।’