সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পটুয়াখালীর অন্তত ৩০টি গ্রামে আজ বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হচ্ছে। সকাল ৮টায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা পশু কোরবানি করেন এবং একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
জানা গেছে, সদর উপজেলার বদরপুর ও ছোট বিঘাই, গলাচিপা উপজেলার সেনের হাওলা, পশুরীবুনিয়া, নিজ হাওলা ও কানকুনিপাড়া, বাউফল উপজেলার মদনপুরা, শাপলাখালী, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, সুরদী, সাবুপুরা ও আমিরাবাদ এবং কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া, নিশানবাড়িয়া, মরিচবুনিয়া, উত্তর লালুয়া, মাঝিবাড়ি, টিয়াখালী ও ইটবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
সদর উপজেলার দাওয়াতুল ইসলাম বদরপুর দরবার শরিফে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরবার শরিফ মসজিদের খতিব মাওলানা মো. শফিকুল ইসলাম আব্দুল গনি। জামাত শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
আয়োজকদের ভাষ্য, বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে তা নিশ্চিত হওয়ার ভিত্তিতে একই আরবি তারিখ অনুসরণ করে তাঁরা রোজা, ঈদ ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে থাকেন।
দরবার শরিফ কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯২৮ সাল থেকে এ অঞ্চলের একটি অংশ বৈশ্বিক চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে। তাঁদের মতে, একই দিনে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে বিশ্ব মুসলিমের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হয়।
মাওলানা শফিকুল ইসলাম আব্দুল গনি বলেন, ‘মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আমরা দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদ পালন করছি। একই দিনে রোজা, ঈদ ও কোরবানি পালনের মাধ্যমে মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতায় প্রতি বছরই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসব জামাতে অংশ নিতে আসেন। সরকারি ঘোষণার একদিন আগে ঈদ উদ্যাপন করলেও তাঁরা এটিকে মুসলিম উম্মাহর বৈশ্বিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখেন।