পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ২৩ দিনের এক শিশুর হাতে লাগানো ক্যানুলা খুলতে গিয়ে আঙুলের একাংশ কেটে ফেলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) গৌতম কুমার কুণ্ডুকে প্রধান করে আজ শনিবার পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শিশুটির দাদা কার্তিক পাল বলেন, ঠান্ডাজনিত কারণে তাঁর নাতনি মিষ্টি পালকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পাবনা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। মিষ্টির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে বলে সকালে জানান চিকিৎসক। এ সময় মিষ্টির হাতে লাগানো ক্যানুলা খুলতে যান আঞ্জুয়ারা খাতুন নামের একজন আয়া। ক্যানুলার সঙ্গে থাকা সার্জিক্যাল টেপ কাঁচি দিয়ে কাটতে গিয়ে মিষ্টির ডান হাতের কনিষ্ঠা আঙুলের একাংশ (নখের অংশ) কেটে ফেলেন তিনি। শিশুটির চিৎকারে ছুটে আসেন অন্যান্য রোগীর স্বজনেরা। অবস্থা বেগতিক দেখে হাসপাতাল থেকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন অভিযুক্ত ওই আয়া। পরে শিশু ওয়ার্ড থেকে অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয় শিশুটিকে। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুটি।
শিশুটির মা শিল্পী পাল বলেন, ‘ডান হাতের কনিষ্ঠা আঙুলের মাথার অংশ কেটেছে। চিকিৎসকেরা চিকিৎসা দিয়েছেন। আমার মেয়ে ভাল আছে। মেয়ে সুস্থ হলেই আমরা খুশি।’
হাসপাতালের অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজিরা খাতুন বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনার পর শিশু ওয়ার্ড থেকে অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় শিশুটিকে। বর্তমানে শিশুটির অবস্থা ভাল আছে। ভয়ের কারণ নেই। দুএকদিনের মধ্যেই ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে।
ঘটনায় অভিযুক্ত আয়া আঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, ‘এতদিন ধরে কাজ করি, কোনোদিন ভুল হয়নি। এটা আমার ভুল হয়েছে।’
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. ওমর ফারুক মীর আজকের পত্রিকাকে বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। কার অবহেলায়, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই সময় কোন নার্স বা ইনচার্জ কর্মরত ছিলেন, ক্যানোলা খুলতে নার্স না গিয়ে কেন আয়াকে পাঠালেন, সব যাচাই বাছাই করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেখে দায়িদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।