পাবনায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র, ম্যাগাজিন ও বিপুল পরিমাণ গুলিসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশের জেলা গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী মেরিনপাড়া ও দিয়ারবাঘইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার চিংড়াখালী গ্রামের শাহীন হোসেন (২০), পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দিয়ারবাঘইল গ্রামের হযরত প্রামানিক (৪৭) ও মানিকনগর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মমিনুল ইসলাম খোকন (৩৩)।
পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পসংলগ্ন ওয়াসা প্রজেক্টের গেস্টহাউস এলাকা থেকে শাহীন ও হযরতকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানিকনগর এলাকা থেকে খোকনকে আটক করা হয়।
এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি সেমি-অটোমেটিক সেলফ-লোডেড রাইফেল (এসএলআর), লোডেড ম্যাগাজিনসহ ৬৭টি তাজা কার্তুজ, একটি বিদেশি রাইফেলের ম্যাগাজিন ও কার্তুজ, একটি কাঠের বাঁটযুক্ত একনলা বন্দুক, একটি সচল ৯ এমএম পিস্তল ৬টি কার্তুজসহ, একটি সচল ৭.৬৫ এমএম পিস্তল ১০টি কার্তুজসহ এবং ৩১টি তাজা কার্তুজ জব্দ করা হয়।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেজিনুর রহমান, ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম, ডিবি এসআই অসিত কুমার বসাক, এসআই বেনু রায়সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, কয়েক দিন ধরে অনুসন্ধানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই অভিযান পরিচালনা করে। আটক ব্যক্তিরা পাবনায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে কাজ করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার নেপথ্যে থাকা অন্যদেরও পর্যায়ক্রমে আইনের আওতায় আনা হবে।
এই ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করে আটক ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।