পাবনার ঈশ্বরদীর চরাঞ্চলে নারী শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় প্রধান আসামি উজ্জ্বল মালসহ জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন উপজেলার কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক ও এলাকাবাসী। আজ সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চরগড়গড়ি আলহাজ মোড়ে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি হয়।
এর আগে সকালে নারী শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা মিছিল নিয়ে আলহাজ মোড়ে এলে আসামির স্বজনেরা কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্রতিরোধের মুখে তাঁরা সেখানে থেকে সটকে পড়েন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় মামলা করার পর থেকে আসামিপক্ষ মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। বিশেষ করে, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদার প্রভাব খাটিয়ে মামলাটি মীমাংসার চেষ্টা করছেন। আসামিরা দোষ এড়াতে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করলেও পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করেনি।
আন্তউপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক আব্দুল হামিদ শিপু এবং এলাকাবাসী আনোয়ার হোসেন ঠান্ডু, আরিফ প্রামাণিক, তুফান হোসেন, নিজাম উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। মানববন্ধনে স্কুলশিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা অংশ নেয়।
উল্লেখ্য, স্কুলে নিয়মিত না আসায় গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এক শিক্ষার্থীকে ধমক দিয়ে শাসন করার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চরগড়গড়ি গ্রামে সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতন নামে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে হামলা চালান ওই শিক্ষার্থীর স্বজনেরা। এ সময় হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে স্কুলে ঢুকে বর্ষা আক্তার সাথী (২৫) নামের এক সহকারী নারী শিক্ষককের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রকাশ্যে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় এনে মারধর করে। এতে নারী শিক্ষক অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্কুলশিক্ষক ও অভিভাবকেরা তাঁকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনার রাতে চরকুড়লিয়া গ্রামের উজ্জ্বল মালসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় মামলা হয়।
নারী শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় ঈশ্বরদী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই তিনি ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করে জড়িত ব্যক্তিদের আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছেন। আগামী দিনে যেন এমন সব ঘটনা না ঘটে, সে জন্য তিনি শিক্ষক, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচির পরিকল্পনা নিচ্ছেন। কারণ, এসব বিষয়ে শুধু শিক্ষক-শিক্ষার্থী নয়, অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. আশাদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।