ঈশ্বরদীতে লিচু উৎসব ও কৃষি বাণিজ্য মেলা
বাংলাদেশ কৃষির ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে থাকলেও সবকিছুতে হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদি। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের এখনো বছরে ৬০-৭০ লাখ টন গম আনতে হয় বাইরে থেকে। কিন্তু আমরা অন্য ক্ষেত্রে যদি উৎপাদনশীলতা ১০ ভাগ বৃদ্ধি করি, তাহলে বাড়তি ফসল আমরা দেশের বাইরে রপ্তানি করতে পারব।’
আজ শুক্রবার বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদীর ছলিমপুর ইউনিয়নের মিরকামারী স্কুল মাঠে বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সমিতি আয়োজিত লিচু উৎসব ও কৃষি বাণিজ্য মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রী ঈশ্বরদীতে একটি লিচু সংরক্ষণাগার বা হিমাগার নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাই করারও আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, লিচু নিয়ে যেন গবেষণা করা হয়, সে জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষিমন্ত্রীকে তিনি অনুরোধ করবেন। তিনি বলেছেন, ‘লিচু নিয়ে কী করা যায় আমরা সেটা নিয়ে একটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করব। সেটা হিমাগারে রাখা অথবা অন্য কোনো সমাধান করে সংরক্ষণ করা। আর অবশ্যই কৃষি মন্ত্রণালয়কে, মাননীয় কৃষিমন্ত্রীকে অনুরোধ করব একটা গবেষণা চালানোর জন্য। আজকে লিচুর যে পচন আমরা দেখলাম গরমের সময় বা কীটনাশকের কারণে—এটার সমাধানটা কী একটা গবেষণা করে একটা ভালো সমাধান দেওয়ার জন্য। যেন পরবর্তী সময়ে লিচুর ভালো ফলন পাই।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা, পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু, পদকপ্রাপ্ত খামারি সিদ্দিকুর রহমান ওরফে কুল ময়েজ প্রমুখ।
এদিকে লিচু উৎসব ও কৃষি বাণিজ্য মেলা ঘিরে মিরকামারী স্কুলমাঠ বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। ঈশ্বরদীতে উৎপাদিত সুস্বাদু লিচু ছাড়াও গাজর, কাঁচকলা, মিষ্টিকুমড়া, লাউ, শসা, কয়েক প্রকার ধানের বীজসহ ফল, সবজি ফসলে সুসজ্জিত মঞ্চ ও মেলার প্রবেশপথে তৈরি করা হয়। দুই মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উদ্বোধকসহ আমন্ত্রিত অতিথি, সরকারি কর্মকর্তা ও সুধীরা এ সময় সুসজ্জিত ফলমূল, সবজি ও ফসলের প্রদর্শনী উপভোগ করেন।