দেশীয় মোজাফফর জাতের লিচুর পাশাপাশি হাটবাজারে সুস্বাদু বোম্বে লিচুরও সরবরাহ বেড়েছে, দামও বেশ চড়া। তবে মিলছে না ক্রেতা। দুই-তিন দিন ধরে এ চিত্র লিচুর জন্য বিখ্যাত পাবনার ঈশ্বরদীর জয়নগর হাটে। এতে হতাশ লিচুচাষিরা।
উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর লিচু হাটে গতকাল রোববার সরেজমিন দেখা গেছে, হাটে প্রচুর লিচু উঠেছে। মোজাফফর জাতের লিচুর পাশাপাশি বোম্বে লিচুও উঠেছে হাটে। তুলনামূলক অস্বচ্ছল ও দরিদ্র চাষিরা ঈদুল আজহার খরচ জোগাতে বোম্বে লিচু আনছেন বাজারে। কিন্তু ক্রেতা নেই বললেই চলে।
গতকাল জয়নগর হাটে প্রতি হাজার লিচু বিক্রি হয়েছে ২-৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর মধ্যে মোজাফফর জাতের লিচু ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ এবং বোম্বে লিচু ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জয়নগর লিচু হাট এলাকায় বাড়ি ভাড়া করে কিংবা উপজেলা সদরের হোটেলে অবস্থান করছেন ঢাকা, সাভার, চট্রগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, নরসিংদী, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারি মহাজনেরা। তাঁরা স্থানীয় চাষি ও বাগানমালিকদের কাছ থেকে লিচু কিনছেন। ইতিমধ্যে অনেক লিচু তাঁরা ঈশ্বরদীর বাইরে বিক্রি করেছেন।
কিন্তু কয়েক দিন ধরে লিচুর হাটে বেচাকেনা কমে গেছে। ঈদের কারণে চাহিদা কমে যাওয়ায় লিচু পাঠাতে পারছেন না। এ অবস্থায় দেশের অন্যতম প্রধান লিচুর হাট জয়নগরে বেচাকেনায় মন্দা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উপজেলার আওতাপাড়া হাটেও একই অবস্থা।
জয়নগর হাটে কয়েকজন লিচুচাষি জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ঈশ্বরদীতে এবার লিচুর ভালো ফলন হয়েছে। ফলে মৌসুমের শুরু থেকে লিচুর ভালো দাম মিলছে। কিন্তু হঠাৎ করেই লিচুর চাহিদা কমে গেছে, এতে বিক্রি কমতে শুরু করেছে। তবে দাম তুলনামূলক ভালো।
ছলিমপুরের সাকরেগাড়ি এলাকার লিচুচাষি শফিকুল জানান, ঈদে পরিবারের বাড়তি খরচ জোগাতে বাগান থেকে লিচু ভেঙে সকালে হাটে এনেছেন। কিন্তু ক্রেতা পাচ্ছেন না।
মোহাম্মদ তছলিম নামে বাঘইল গ্রামের লিচুচাষি বলেন, শুরুতে লিচুর হাটে অনেক ক্রেতা ছিল। বাইরের ব্যবসায়ীর আমদানিও প্রচুর। কিন্তু কোরবানি ঈদের আয়োজনের কারণে এখন কেউ লিচু কিনতে চাইছেন না।
কুমিল্লার গৌরীপুরের ব্যবসায়ী জামাল হোসেন জানান, ঈদের কারণে লিচুর চাহিদা কমতে শুরু করেছে।
উপজেলা কষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জানান, ঈশ্বরদীতে ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে এবার লিচুর ফলন হয়েছে।