পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলিম, তাঁর ভাইসহ তাঁদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এক ব্যবসায়ীসহ দুজনের কাছ থেকে তাঁরা ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন উল্লেখ করে সম্প্রতি পাবনা সদর থানায় মামলা করার জন্য পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন পাবনা পৌর সদরের দক্ষিণ রাঘবপুর নিমতলা এলাকার মৃত জলিল প্রামাণিকের ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলিম (৫০), তাঁর ভাই আব্দুল হালিম ওরফে ক্যালা হালিম (৫৫), একই এলাকার সুজন প্রামাণিকের ছেলে সবুজ প্রামাণিক (৩৬) ও মৃত লোকমানের ছেলে রাফেল (৩২)।
অভিযোগকারী দুজন হলেন পাবনা পৌর সদরের দক্ষিণ রাঘবপুর এলাকার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে রানা শেখ (৩৫) ও একই এলাকার মৃত জাকির হোসেনের ছেলে মো. মুজির হোসেন (৪৫)।
গতকাল শনিবার (১১ এপ্রিল) থানায় করা রানা শেখের অভিযোগ, তিনিসহ আরও তিনজন দক্ষিণ রাঘবপুর নিমতলা মৌজায় ৩ শতাংশ জমি কিনেছেন। জমি কেনার পর থেকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল আলিমসহ উল্লিখিত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁদের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এর মধ্যে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে রানা শেখ তাঁর মিস্ত্রিদের নিয়ে কেনা জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখান গিয়ে গালিগালাজ করেন, সীমানাপ্রাচীর ভেঙে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন এবং রাজমিস্ত্রিকে হত্যার হুমকি দেন। রানা শেখ তাঁদের গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে তাঁকে মারতে গেলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। পরে তাঁরা চাঁদা না দিয়ে কাজ করতে গেলে হত্যা করে লাশ ওই মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী রানা শেখের।
অন্যদিকে গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থানায় করা একই এলাকার ব্যবসায়ী জীম ফারজানা অয়েল মিলের স্বত্বাধিকারী মুজির হোসেনের অভিযোগ, ১০ এপ্রিল বেলা ২টার দিকে নিজের মিলে অবস্থানকালে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল আলিম ও উল্লিখিত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর কাছে গিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন তাঁরা। এ ঘটনার পর পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে থানায় মামলার এজাহার দিয়েছেন।
মুজির হোসেন বলেন, ‘এর আগে ২০২৫ সালের ২১ মে দুপুর ১২টার দিকে একই অভিযুক্ত দুই ভাইসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা পিস্তল ও চাপাতি নিয়ে আমার মিলে যায়। ওই সময় তারা আমার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। প্রাণভয়ে সেদিন পূবালী ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকার চেক লিখে দিতে বাধ্য হয়েছিলাম। পরে তারা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেয়।’
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয় আব্দুল আলিমের সঙ্গে। রানা শেখের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বাপ-দাদার জায়গা তারা দখল করছে। যে জমি কিনছে, সে ১৩ বছর জমিতে আসতে পারে না, আদালতে মামলাও রয়েছে। সেই জায়গা তারা দখল করছে, তারা কারা, এটা তো বোঝেনই। এগুলো এখন আর বলার কিছু নাই। জমি তো আর উড়ে যাচ্ছে না। কাগজপত্র কথা বলবে—জমি কার।’
তেলের মিলমালিক মুজিরের কাছে চাঁদা দাবির বিষয়ে আলিম বলেন, ‘আপনারা ওখানে গিয়ে শোনেন। আরও তো লোকজন আছে। আমরা তো চাঁদাবাজ বা দখলবাজ না। আমরা ব্যবসা করে খাই। আর কারা কী করছে না করছে, তা পাবলিক জানে। পাবনার জনগণ সব জানে। সবার কাছে খোঁজ নেন আমরা কী, কেমন, কিসের ব্যবসা করি, মানুষ জানে। আর তারা কী করে, কী করে খায়, সেটাও মানুষ জানে।’
এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘জমি দখল, চাঁদা দাবির বিষয়ে উভয় পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আব্দুল আলিম পক্ষও তাদের জমি দাবি করে অভিযোগ দিয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখছি। জমিজমার বিষয় যেহেতু আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে নয়, তাদের বলেছি একজন উকিল নিয়ে বসে কাগজপত্র সব দেখে বিষয়টি সমাধান করে নিতে। আর মুজির হোসেনের বিষয়টিও তদন্ত করে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’