নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছাইফ উদ্দিন আহমদ দীর্ঘদিন হত্যা-বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলার আসামি হয়ে জেলা কারাগারে রয়েছেন। সম্প্রতি জেলখানায় দুজনের কথাবার্তার পর রুমেলের মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থিকে বিয়ে দেওয়া হয় ছাইফ উদ্দিনের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবের সঙ্গে। গত ৩০ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
খবর হলো, গত সোমবার দুই নেতাকে মামলায় হাজিরার জন্য আদালতে নিলে পুলিশের উপস্থিতিতে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা হাজতখানায় ‘বেয়াইখানার’ আয়োজন করেন। এ সময় নারী আসামিদের জন্য সংরক্ষিত ওই হাজতে রুমেলের স্ত্রী খোদেজা আক্তার সুমি, মেয়ে অর্থি, জামাতা ছাইমসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় পরিবারের সদস্যসহ দুই আওয়ামী লীগ নেতার ‘বেয়াইখানার’ এই ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে দ্বীপ থানা হাতিয়ায় বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন।
অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন, সহকারী শহর উপপরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলাম ও কবির আহম্মদ ভূঁইয়া; কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন, মো. হাসান ও সাইফুল ইসলাম। আর তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) লিয়াকত আকবর ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পরিদর্শক (ক্রাইম) মো. শাহ আলম।
পুলিশ কর্মকর্তা আবু তৈয়ব জানান, এ কমিটি আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবে। এ ছাড়া ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিক হাতিয়া থানার বিভিন্ন ফাঁড়িতে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রুমেলের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জের ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাত কর্মীকে গুলি করে হত্যাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা চলমান। অন্যদিকে ছাইফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে হাতিয়া, চরজব্বার ও কবিরহাট থানায় বিস্ফোরকসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।