হোম > সারা দেশ > নীলফামারী

দক্ষিণের ট্রেনে উত্তরের কৃষি শ্রমিকের ঢল

নীলফামারী প্রতিনিধি

বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সাধারণত অলস সময় কাটান উত্তরাঞ্চলে কৃষি শ্রমিকেরা। এ সময় মাঠে কাজ না থাকায় ধারদেনা করে চলতে হয় তাঁদের। এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য দিনে দিনে বাড়ে ঋণের বোঝা। ইরি-বোরো ধান পাকতে এখনো ২০/২৫ দিন বাকি। কাজের সন্ধানে দক্ষিণের উদ্দেশে এখনই বাড়ি ছাড়ছেন উত্তরের এই দরিদ্র মানুষেরা।

কৃষি শ্রমিকের সংকট দিন দিন বাড়ছে। ফলে বিশেষ করে পাঁচবিবি, জয়পুরহাট, আক্কেলপুর, তিলকপুর, সান্তাহার, আদমদীঘি, আত্রাই, নওগাঁ, নাটোর, খুলনা, যশোরসহ বিভিন্ন জেলায় উত্তরবঙ্গের এই শ্রমিকেরাই ভরসা। এই কৃষি শ্রমিকেরা প্রতিবছরই ধান কাটা-মাড়াইয়ের সময়টা ট্রেনে চেপে এসব এলাকায় ছোটেন। 

নীলফামারীসহ পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ, দিনাজপুরের খানসামা ও চিরিরবন্দর এবং রংপুরের তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলার দিনমজুরেরা ভিড় করছেন রেলস্টেশনগুলোতে। এখন প্রতিদিন সকালেই এ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে কথা হয় দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ডাঙ্গারহাটের কৃষি শ্রমিক হেলাল উদ্দিনের (৫০) সঙ্গে। তিনি জানান, ১২ জন শ্রমিকের একটি দল নিয়ে ধান কাটতে যাচ্ছেন সান্তাহারে। ওই এলাকায় প্রতি বছর ধান কাটতে যান তাঁরা। তিনি বলেন, ‘এ জন্য এই এলাকার গৃহস্থদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ থাকে। ধান পাকলেই তাঁরা ফোনে যোগাযোগ করেন।’

নীলফামারী জেলা সদরের চাপড়া সরমজানি ইউনিয়নের আব্দুল কাদের বলেন, ‘স্ত্রী-সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে অর্থ উপার্জনের জন্য ধান কাটতে নাটোর যাচ্ছি। দাদন ব্যবসায়ীর কাছে ঋণ নিয়ে ছেলের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা দিয়েছি। দুই সপ্তাহের খাবারের জোগান দিয়ে কাজের সন্ধানে বের হয়েছি। আয় করে পরিশোধ করব।’ চুক্তিভিত্তিক কাজে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মজুরি পড়ে বলে জানান তিনি।

এদিকে নতুন নিয়ম না জানার কারণে ট্রেনের টিকিট না পেয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে অনেক শ্রমিককে। আজ রোববার দেখা গেল, বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন তারাগঞ্জের আলমপুর ইউনিয়নের আলতাফ হোসেন ও তাঁর দলবল। তিনি জানান, টিকিট কাটতে আইডি কার্ড লাগে এটা জানতেন না। বিনা টিকিটে ট্রেনে উঠবেন না। খুলনা যাওয়ার জন্য স্টেশনে এসেছিলেন। আলতাফ বলেন, ‘মোবাইলে গৃহস্থকে জানিয়ে দিয়েছি, একদিন পর আমরা আসতেছি।’

নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ওবাইদুল ইসলাম রতন জানান, দক্ষিণাঞ্চলে যাওয়ার জন্য কৃষি শ্রমিকদের যাতায়াতের সহজ মাধ্যম রেলপথ। এ স্টেশনে কম্পিউটার সিস্টেম না থাকায় কৃষি শ্রমিকেরা তাঁদের নির্দিষ্ট স্টেশনে যেতে সহজেই টিকিট পাচ্ছেন। তবে সৈয়দপুর ও চিলাহাটি স্টেশনে আইডি কার্ড ছাড়া যাত্রীকে টিকিট দিতে পারবে না স্টেশন কর্তৃপক্ষ। অনেকে ট্রেনের টিকিট না পেয়ে দলগতভাবে ট্রাক-পিকআপ ভাড়া নিয়ে সড়কপথে কাছের জেলা ও উপজেলাগুলোতে চলে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

কৃত্রিম সার সংকট: গুদামজাত করে বাইরে পাচার

চাঁদাবাজির প্রতিবাদে চার দিন ধরে মাছবাজার বন্ধ, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

নীলফামারীতে তাপমাত্রা নামল ৯ ডিগ্রির ঘরে, তীব্র শীতে কাবু জনজীবন

সৈয়দপুরে আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর বিএনপিতে যোগদান

পাউবোর মামলার প্রতিবাদে নীলফামারীতে মশাল মিছিল, উত্তপ্ত বুড়ি তিস্তার পার

ডিমলায় বুড়ি তিস্তা খনন নিয়ে সংঘর্ষ, আনসার ক্যাম্পে ভাঙচুর

নীলফামারী-১ আসন: তুহিনের মনোনয়ন দাবি সমর্থকদের, আফেন্দীকে বর্জনের হুঁশিয়ারি

নীলফামারীর ৪টি আসন: চমকে দিতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

নীলফামারীতে পুকুরে মিলল ব্যাংকের ভল্ট

হাইড্রোসেফালাসে আক্রান্ত আয়শার চিকিৎসা বন্ধ, অর্থাভাবে মানবেতর জীবন