নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত হলো ‘এয়ারপোর্ট ইমার্জেন্সি এক্সারসাইজ ২০২৫’। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে পৌনে ২টা পর্যন্ত আয়োজিত এ মহড়ায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণের একটি কল্পিত দৃশ্য উপস্থাপন করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার প্রশিক্ষিত সদস্যরা অংশ নেন। মহড়ার আয়োজন করে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল কোনো উড়োজাহাজে বোমা বা বোমাসদৃশ বস্তু পাওয়া গেলে যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণের প্রক্রিয়া অনুশীলন করা। বেবিচকের বিধি অনুযায়ী বিমানবন্দরে হাইজ্যাক, অগ্নিকাণ্ড, বোমা হামলাসহ বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত এ ধরনের মহড়া আয়োজন করা হয়।
মহড়ায় অংশ নেয় অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি, বেবিচকের অগ্নিনির্বাপক বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট, পুলিশ, আনসার, এপিবিএন, র্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট, সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ও বেসরকারি বিমান সংস্থা এয়ার এ্যাস্ট্রা।
দৃশ্যপটে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণকক্ষে একটি বার্তা আসে যে একটি এয়ারক্রাফটে বোমা রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জানায়। পরে দেড় শতাধিক প্রশিক্ষিত সদস্য অপারেশনে অংশ নিয়ে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তাফা মাহমুদ সিদ্দিক। স্বাগত বক্তব্য দেন বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক এ কে এম বাহাউদ্দিন জাকারিয়া। সঞ্চালনা করেন সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. মাজমুল ইসলাম ও মোছা. আফরোজা বেগম। বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক বেবিচক সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর মো. আসিফ ইকবাল।
এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তাফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, ‘এ মহড়ার সফলতা সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার সক্ষমতা আমরা আজ দেখাতে পেরেছি।’ তিনি অংশীজনদের প্রস্তুতি ও দক্ষতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মোস্তাফা মাহমুদ সিদ্দিক জানান, সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম ইতিমধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে। রানওয়ে ওভারলের কাজের প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। নতুন অ্যাপ্রোন/টারমার্ক নির্মাণ শেষ হয়েছে। প্রায় ১২ হাজার ফুট পেরিমিটার রোড তৈরি শেষ হয়েছে, বাকি প্রায় ৩ হাজার ফুট কাজ চলছে। এসব উন্নয়ন যাত্রীসেবায় মানোন্নয়ন ঘটাবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করে তুলবে।