পেট্রল ঢেলে গায়ে আগুন লাগিয়ে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যায় জড়িত স্বামী সাজু খানকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে নীলফামারীর সৈয়দপুরে মানববন্ধন করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বীথির পরিবারের লোকজন, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।
এতে বক্তব্য দেন বীথি আক্তারের বাবা বাবুল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক শওকত হায়াত শাহ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আর এ পাপ্পু, কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য মমতা বেগম, একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি বাবু হোসেন, বীথির আত্মীয় শরিফুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পলাতক সাজু খানকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না বলেও তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন।
উল্লেখ্য, বীথি আক্তার সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের নিজামের চৌপথী বড়বাড়ি গ্রামের বাবুল হোসেনের মেয়ে। তাঁর স্বামী সাজু খান একই উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের সোনাখুলী জামবাড়ি এলাকার নজরুল ইসলাম চেল্লুর ছেলে। তাঁরা তিন বছর বয়সী ছেলে আব্দুর রহমানসহ নীলফামারী জেলা শহরের গাছবাড়ি এলাকায় ইকবাল হোসেনের বাসায় ভাড়া থাকতেন।
৯ মে রাত ৮টায় স্বামী সাজু খান স্ত্রী বীথি আক্তারের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দরজায় তালা দিয়ে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে আগুন দেখে প্রতিবেশীরা বীথি আক্তারকে উদ্ধার করে। তাঁকে প্রথমে নীলফামারী সদর হাসপাতালে এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরদিন ঢাকার ন্যাশনাল বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ মে বিকেলে মারা যান তিনি।