হোম > সারা দেশ > নেত্রকোণা

জেলার সেরা বিদ্যালয়, তবু ঝুঁকিপূর্ণ ভবন

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান। ছবি: আজকের পত্রিকা

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবার জেলার শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। অথচ বিদ্যালয়টির জীর্ণদশা দেখলে মনে হয়, দীর্ঘদিনের অবহেলা আর অযত্ন একে নিঃশেষ করছে তিলে তিলে।

মেয়াদোত্তীর্ণ একতলা ভবনের ফাটল ধরা ছাদের নিচে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পাঠ নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। মাঝে মাঝেই খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। ভাঙাচোরা দরজা-জানালা আর স্যাঁতস্যাঁতে শ্রেণিকক্ষ। ওই ভবনেই চলছে পাঠদান।

মোহনগঞ্জ-ধর্মপাশা সড়কের পাশে উপজেলার বামেরচর এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে সাতজন শিক্ষক ও ১৬৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়টিতে কোনো নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় দুটি একতলা ভবনেই পাঠদান কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে ১৯৯৭ সালে নির্মিত ভবনটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

২০০৬ সালে নির্মিত অপর একতলা ভবনেও মাত্র তিনটি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই ক্লাস নিতে হচ্ছে। শিক্ষকদের অফিস কক্ষও ওই ভবনেই অবস্থিত।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনটির ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সময় পলেস্তারা খসে পড়ছে। দরজা-জানালাও নষ্ট হয়ে গেছে। চলতি অর্থবছরে ক্ষুদ্র মেরামতের কোনো বরাদ্দও পায়নি বিদ্যালয়টি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপজেলায় নবনির্মিত কয়েকটি বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দ দেওয়া হলেও সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ভূমিকম্প বা বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।

প্রায় দুই বছর আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন নন-ক্যাডার কর্মকর্তা সোহাগ সিদ্দিকী। যোগদানের পর থেকে তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেন। শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগী করা, অভিভাবকদের সচেতন করা, নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা ও বিভিন্ন উদ্ভাবনী কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। এতে অভিভাবকদের আস্থা ফিরে আসে এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। এসব সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এবার বিদ্যালয়টি জেলার শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক সোহাগ সিদ্দিকী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগী করা, অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী কার্যক্রম চালু করেছি। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো শ্রেণিকক্ষের সংকট। বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস নিতে হচ্ছে। শিক্ষকদের অফিসও ওই ভবনে। সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকতে হয়। বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় মেরামতের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পাঠ নিতে পারবে।'

বিদ্যালয়ের সদ্য নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা গর্বিত। কিন্তু বিদ্যালয়টি উন্নয়নবৈষম্যের শিকার হয়েছে। একটি ভবন মেয়াদোত্তীর্ণ, ছাদে ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়ছে, দরজা-জানালা ভাঙা; অন্য ভবনটিও প্রায় ২০ বছরের পুরোনো এবং সেখানে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।'

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তথ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো নতুন ভবনের বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য যেসব বিদ্যালয়ের তথ্য পাঠানো হয়, সেখান থেকে অধিদপ্তরই নির্বাচন করে বরাদ্দ দেয়। এতে উপজেলা পর্যায়ের কোনো ভূমিকা থাকে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, বিদ্যালয়ের ফাটলসহ প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ দ্রুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণের জন্যও আবেদন করা হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল আজম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তথ্য উপজেলা পর্যায়ের কমিটি পাঠিয়ে থাকে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলার সেরা বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি অর্জনের পরও নিরাপদ ভবনের অভাবে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে পাঠ নিতে হয় বলে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাঁদের দাবি, শিক্ষার মানের স্বীকৃতির পাশাপাশি বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়নেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

নেত্রকোনায় মাদ্রাসার শিক্ষিকাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস

ধর্ষণ ও সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার: ১৩ বছর পর আসামির যাবজ্জীবন

নদীতে ভেসে ওঠা নবজাতকের লাশ: রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি পুলিশের

বিড়ি চাওয়ার জেরে হাতাহাতি, অ্যাসিড নিক্ষেপে দগ্ধ ৩

মুক্তিযুদ্ধের সময় গুলিবিদ্ধ: ৫৫ বছর পর শাপমুক্ত হলেন মন্নাস আলী

মোহনগঞ্জে প্রেমিকের সহযোগিতায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রেমিক গ্রেপ্তার

নেত্রকোনায় অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রচার, গ্রেপ্তার ৮

হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম: তানভীরের এগিয়ে চলার গল্প

কেন্দুয়ায় পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

ইট বেঁধে নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয় নবজাতককে, ভেসে উঠলে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ