হোম > সারা দেশ > নেত্রকোণা

মসজিদে অনুদানের টাকা ফেরতে ক্ষুব্ধ হয়ে বাজারে ফাঁকা গুলি, তাঁতী দল নেতাকে খুঁজছে পুলিশ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

আবু বকর সিদ্দিকের নির্বাচনী পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার পূর্বধলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে এক ব্যস্ত বাজারে পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জেলা তাঁতী দলের সহসম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক ওরফে হাজি সিদ্দিকের বিরুদ্ধে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের ইচুলিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সিদ্দিককে আটক ও ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খলিশাউড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন আবু বকর সিদ্দিক। সম্প্রতি খলাপাড়া শেখবাড়ী জামে মসজিদে মাইক কেনার জন্য তিনি চার হাজার টাকা অনুদান দেন। পরবর্তীকালে একই কাজে আরেক প্রার্থী মাসুদ পাঁচ হাজার টাকা অনুদান দেন।

এ নিয়ে সিদ্দিক মসজিদ কমিটির লোকজনের কাছে তাঁর নির্বাচনী অবস্থান ও সমর্থনের বিষয়ে জানতে চান। একপর্যায়ে তিনি নিজের দেওয়া টাকা ফেরত দাবি করলে মসজিদ কমিটি তা ফেরত দেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টাকা ফেরত নেওয়ার পর সিদ্দিক বাজারে তাঁর লাগানো নির্বাচনী ব্যানারে কেউ যেন হাত না দেয়—এই মর্মে হুমকি দিতে থাকেন। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি ইচুলিয়া বাজারের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে পিস্তল বের করে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

ঘটনাস্থলে গুলির খোসা। ছবি: সংগৃহীত

খবর পেয়ে পূর্বধলা থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবহৃত পিস্তলের একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে। ঘটনার পর অভিযুক্ত সিদ্দিককে আটকের উদ্দেশ্যে পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নামে। অভিযানের অংশ হিসেবে পূর্বধলা বাজারের স্টেশন রোডে সিদ্দিকের ছোট ভাই, কনটেন্ট ক্রিয়েটর আল আমিনের বাসাতেও তল্লাশি চালানো হয়।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন গতকাল রোববার সন্ধ্যায় জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে গুলির ঘটনায় আবু বকর সিদ্দিকের নাম এসেছে। তাঁর নামে কোনো বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স নেই। তাঁকে আটক ও অস্ত্রটি উদ্ধারে জোর অভিযান চলছে। আশা করছি দ্রুতই তাঁকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

ঘটনার সত্যতা ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে আবু বকর সিদ্দিকের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

তবে জেলা তাঁতী দলের সভাপতি সাইফুদ্দীন আহমেদ লেলিন তাঁর দলীয় পরিচয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘আবু বকর সিদ্দিক যদি সত্যিই এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তবে তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবহিত করে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’