নেত্রকোনায় যাত্রীবাহী বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। মা ও দুই মেয়ের মৃত্যুর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন অটোরিকশাচালক রেহান মিয়া (৪০)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত আরও দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ রোববার বিকেল ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেহান মিয়ার মৃত্যু হয়। তিনি নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের মৃত আমিরুজ্জামানের ছেলে।
এর আগ, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চল্লিশা বাসপাই মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নেত্রকোনা সদর উপজেলার আমলী কেশবপুর গ্রামের আয়নুল হকের স্ত্রী নূর জাহান (৪৫), মেয়ে স্মৃতি আক্তার (১৫) ও সুমাইয়া আক্তার ইতি (৮) নিহত হয়।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন আয়নুল হক (৬০)। পরিবার নিয়ে সেখানেই বসবাস করেন। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। আজ গাজীপুরের বাস ধরতে বাড়ি থেকে অটোরিকশা করে স্ত্রী-সন্তানসহ জেলার হিরনপুর এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে চল্লিশা বাসপাই মোড়ে পৌঁছালে ময়মনসিংহ থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনায় অটোরিকশার সাত যাত্রী আহত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে নূর জাহান, স্মৃতি ও সুমাইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। গুরুতর আহত আয়নুল হক ও অটোরিকশাচালক রেহান মিয়াকে মমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। অপর আহত যাত্রী মোস্তাফিজ (২৫) নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।