নেত্রকোনার পূর্বধলায় ভিজিএফ কার্ড না দেওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল ও পরিষদের সামনে ঝোলানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আফতাব উদ্দীন সরকার সোহাগ নামের এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।
গতকাল সোমবার এ-সংক্রান্ত একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছড়িয়ে পড়ে। পরে এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন উপজেলার পোগলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আকন্দ খোকন।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জিডির তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত আফতাব উদ্দীন সরকার সোহাগ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি। তিনি পূর্বধলা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের কালিহরকান্দা গ্রামের মো. আশরাফ উদ্দিন সরকারের ছেলে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই কল রেকর্ডে ছাত্রদল নেতা সোহাগকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের যে ৪১৫টা কার্ড, এই কার্ডগুলা কি দিছেন?’ জবাবে চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘না।’ তখন সোহাগ প্রশ্ন করেন, ‘এইগুলা দেন নাই কেন?’ জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, ‘কার্ডগুলো দেওয়ার তো কোনো ইয়ে হইছে না, পরিবেশ নাই।’ তখন সোহাগ বলেন, ‘কী রকম পরিবেশ নাই?’ চেয়ারম্যান বলেন, ‘পরিবেশ নাই, বলে নাই কিচ্ছু।’
এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে সোহাগ বলেন, ‘কে বলছে না?’ এরপর অশালীন ভাষায় চেয়ারম্যানকে গালাগাল করতে শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে চেয়ারম্যানকে হুমকি দিয়ে সোহাগ বলেন, ‘তুই যে আমাগো কার্ড দিসস না, তোর কত বড় সাহস! তুই আমারে চিনস রে, তুই শহীদুল্লাহ এমরানরে (উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব) কার্ড দেস না, তুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানি করস? ঈদের পরে তোরে যদি আমি ইউনিয়নের সামনে না লটকাইছি। তুই আমারে চিনস না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আকন্দ খোকন বলেন, ‘গত রোববার সকালে আফতাব উদ্দীন সরকার সোহাগ অনৈতিকভাবে আমার কাছে ৪১৫টি ভিজিএফ কার্ড চায়। দিতে অস্বীকার করলে সোহাগ আমাকে অপমান করে।’
সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে কল করে কেন তাকে ভিজিএফ কার্ড দেওয়া হয়নি, জানতে চায় সোহাগ। একপর্যায়ে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে। তাকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করি যে, উপজেলা সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব কার্ড দুস্থদের মাঝে বিতরণ কমিটির উপস্থিতিতে চাল বিতরণ করা হয়। নিয়মের বাইরে কিছু করা যাবে না। কিন্তু সোহাগ তা মানতে নারাজ। একপর্যায়ে সোহাগ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেয়। পরে তার হুমকির কল রেকর্ড নিয়ে সোমবার থানায় জিডি করা হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আফতাব উদ্দীন সরকার সোহাগের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
কল রেকর্ডে ওই ছাত্রদল নেতা তাঁর নাম নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শহীদুল্লাহ্ এমরান বলেন, ‘ছড়িয়ে পড়া ওই কল রেকর্ডে আমার নাম নিয়েছে শুনে তার (সোহাগ) সঙ্গে অনেক রাগারাগি করেছি। সে জানিয়েছে, কল রেকর্ডটি আসল নয়, এআই দিয়ে বানানো। সোহাগ বলেছে, সম্প্রতি সে চেয়ারম্যানের সঙ্গে ফোনে কথাই বলেনি। মূলত সোহাগ ওই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী, তাই দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। এই কারণে এমনটা হতে পারে।’
ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জিডির বিষয়টি তদন্তাধীন। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।