চিকিৎসকদের অবহেলায় এক ইজিবাইকচালকের মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় লোকজন। গতকাল রোববার রাত পৌনে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
নিহত সজীব মিয়া (২৩) নেত্রকোনা পৌর শহরের আমগাছতলা এলাকার শুকুর আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন ইজিবাইকচালক ছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা ও বমি নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় সজীবকে জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। বিদ্যুৎ না থাকার অজুহাতে চিকিৎসক সুজন পাল সেবা দিতে সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু হয়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে জড়ো হন এবং ক্ষুব্ধ হয়ে জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালান। এতে জরুরি বিভাগ ও পাশের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের কয়েকটি জানালার কাচ ও একটি দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) মাজহারুল আমিন বলেন, ওই দিন সন্ধ্যা থেকে হাসপাতালে বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটরের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা চলছিল। রাত ৮টায় রোগীকে হাসপাতালে আনা হলে সঙ্গে সঙ্গে ইসিজি করে দেখা যায়—রোগী কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে ছিলেন। অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক একরামুল হাসান বলেন, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না, তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চিকিৎসক সুজন পালের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের আজ দুপুরে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।