কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ছোট-বড় গরুর খামারগুলোতে এখন চলছে ব্যস্ত সময়। সারা বছর যত্নে লালন-পালন করা পশু বিক্রি করে বড় লাভের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন খামারিরা। ঈদ উপলক্ষে খামারগুলোতে চলছে বাড়তি পরিচর্যা, পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ এবং শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের নাওধারা গ্রামের খামারি হযরত আলী গড়ে তুলেছেন ‘মুবারাকাহ অ্যাগ্রো’ নামে একটি খামার। ২০২২ সালে ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে খামারটি সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছে। এবার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে তিনি প্রস্তুত করেছেন ২৬টি গরু। এরই মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন পশুর হাটে ৯টি গরু বিক্রি করেছেন। বর্তমানে খামারে রয়েছে আরও ১৭টি গরু।
খামারটিতে প্রতিটি গরুকে বাজার উপযোগী করে তুলতে বিশেষ খাবার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও রাখা হচ্ছে বাড়তি নজর। ঈদের বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় চলছে এই বাড়তি যত্ন।
খামারি হযরত আলী জানান, তাঁর খামারে অস্ট্রেলিয়ান, পঙ্করাজ, ব্রাহামা, শাহীওয়াল ও নেপালি জাতের গরু রয়েছে। গরুর জাত ও আকারভেদে প্রতিটির দাম তিন লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আশা করছেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকার গরু বিক্রির প্রত্যাশা রয়েছে তাঁর। আশানুরূপ দাম পেলে ভবিষ্যতে খামার আরও বড় করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সদর ইউনিয়নের চকলেঙ্গুরা এলাকার আজিজুল হকের খামারে রয়েছে ১৩টি গরু। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারের দুই সহযোগী।
খামারের কর্মী রাশেদ মিয়া বলেন, ‘সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গরুগুলোর পেছনেই সময় দিচ্ছি। খাবার খাওয়ানো, গোসল করানোসহ সব ধরনের যত্ন নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, এবার গরুগুলোর ভালো দাম পাব।’
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, খামারের ব্যস্ততাও তত বাড়ছে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে খামারিদের পাশাপাশি সময় দিচ্ছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরাও। তাঁদের প্রত্যাশা, এবার কোরবানির বাজারে গরুর ন্যায্যমূল্য পাবেন খামারিরা।
স্থানীয়রা বলছেন, এসব খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। তাই খামারিদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তাঁরা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দুর্গাপুর উপজেলায় সাত শতাধিক খামারির প্রায় সাড়ে সাত হাজার গরু। এ ছাড়াও প্রায় চার হাজার ছাগল প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এসব পশুর একটি বড় অংশ দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও সরবরাহ করা হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অমিত দত্ত বলেন, খামারিদের আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যেন কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়। স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ উপায়ে পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বাজারে যেন ভোক্তারা নিরাপদ পশু পান, সে বিষয়েও নজরদারি রাখা হবে।