হোম > সারা দেশ > নেত্রকোণা

হামলায় জখম নারীদের অভিযোগ না নিয়ে সালিসে সমাধানের পরামর্শ ওসির

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

ওসি চম্পক দাম। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দামের বিরুদ্ধে মারধরে জখম হওয়া দুই নারীর অভিযোগ না নিয়ে সালিসে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ওসি চম্পক দাম লিখিত অভিযোগ না নিয়ে বিষয়টি সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পরামর্শ দেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে অভিযোগ নেওয়া হলেও দুই পক্ষকে থানায় ডেকে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হবে বলে জানান ওসি।

গত শনিবার (১১ জুলাই) রাতে বারহাট্টা থানায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীরা হলেন উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের আব্দুল্লাহর স্ত্রী মুক্তা বেগম (৪৫) ও তাঁর মেয়ে আঁখি আক্তার (২৮)। হামলাকারী বাদশা মিয়া (৩৬) একই ইউনিয়নের ধনপুর গ্রামের মৃত নুর হাকিমের ছেলে। তিনি মৎস্য ব্যবসায়ী।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরে আঁখি আক্তারের স্বামী বাদশা মিয়া শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তাঁকে মারধর করেন। এ সময় মেয়েকে রক্ষা করতে গেলে বাদশা লাঠি দিয়ে শাশুড়ি মুক্তা বেগমের পিঠে আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত হন। এ সময় তাঁকে কিল-ঘুষি ও টেনেহিঁচড়ে আহত করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এসে মা-মেয়েকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ভুক্তভোগী মুক্তা বেগম বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ করতে চাইলে আগামী বুধবার থানায় উভয় পক্ষকে ডেকে সালিসের মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে জানিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন ওসি। পরে আত্মীয়স্বজনের পরামর্শে আবারও থানায় ফিরে যাই। আমাদের পরিচিত ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে ওসি কিছুটা নমনীয় হয়ে অভিযোগ নিতে রাজি হন। অভিযোগ নেওয়ার পরও ওসি বলেন—এ বিষয়ে বুধবার থানায় আলোচনা হবে, এরপর প্রয়োজন হলে মামলা হবে।’

মুক্তা বেগম আরও বলেন, ‘থানায় গিয়ে দেখি আগে থেকেই অভিযুক্ত বাদশা সেখানে অবস্থান করছেন। পুলিশের সঙ্গে তাঁর বেশ সখ্য। তাই হয়তো আমাদের অভিযোগ নিতে চাইছে না পুলিশ। এত বড় জখমের পর কেন অভিযোগ নিতে চাইছে না, বুঝতে পারছি না। আমরা তো সালিস চাই না। আর থানা তো সালিসের জায়গা না।’

একই অভিযোগ করেন অপর ভুক্তভোগী আঁখি আক্তার। তিনি বলেন, ‘শেষমেশ অভিযোগ দিয়েও ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি। বদশার সঙ্গে পুলিশের ভালো সম্পর্ক দেখলাম। আমাদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করে আগেই থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে। ওসি অভিযোগ না নিয়ে সালিসের সময় দিচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা এর বিচার চাই।’

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ২০২৩ সালে আঁখি আক্তারের সঙ্গে বাদশা মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন শুরু হয়। কয়েক লাখ টাকা দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এ ঘটনায় গত বছরের নভেম্বরে আঁখি আক্তার আদালতে একটি মামলা করেন। মামলাটি চলমান রয়েছে। তাঁদের এক বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি বাদশা মিয়া গোপনে আরেকটি বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে দাম্পত্যবিরোধ আরও তীব্র হয় এবং আঁখি সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

এ বিষয়ে জানতে হামলাকারী বাদশা মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

অভিযোগের বিষয়ে বারহাট্টা থানার ওসি চম্পক দাম বলেন, অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি পারিবারিক হওয়ায় আলোচনা করে শেষ করে দিতে বলা হয়েছে। তবে আগে অভিযোগ না নেওয়ার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

বিষয়টি অবহিত করলে জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম বলেন, হামলায় জখমের ঘটনায় অভিযোগ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এমন ঘটনায় থানায় সালিসের নিয়ম নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নেত্রকোনায় চিকিৎসায় অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতালে ভাঙচুর

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কংস নদের ভাঙনরোধে বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

নেত্রকোনায় ১৭ চোরাই গরু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

ধারের টাকা ফেরত না দেওয়ায় কিশোরকে হত্যা, এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

জেলার সেরা বিদ্যালয়, তবু ঝুঁকিপূর্ণ ভবন

নেত্রকোনায় মাদ্রাসার শিক্ষিকাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস

ধর্ষণ ও সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার: ১৩ বছর পর আসামির যাবজ্জীবন

নদীতে ভেসে ওঠা নবজাতকের লাশ: রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি পুলিশের

বিড়ি চাওয়ার জেরে হাতাহাতি, অ্যাসিড নিক্ষেপে দগ্ধ ৩

মুক্তিযুদ্ধের সময় গুলিবিদ্ধ: ৫৫ বছর পর শাপমুক্ত হলেন মন্নাস আলী