নাটোরের লালপুরে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী যুবদলের সাবেক বহিষ্কৃত নেতা মাহমুদ হাসান সোনামণিসহ চারজনকে বিদেশি পিস্তল, গুলি, ম্যাগাজিনসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে বানেশ্বর-ঈশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার ২ নম্বর ঈশ্বরদী ইউনিয়নের পালিদেহা এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালিয়ে এঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার বাকি তিনজন হলেন মো. সামিউল ইসলাম (৪৬), মো. কাজল (৪০) ও মো. মনিরুজ্জামান (৩৯)। এ সময় অজ্ঞাতনামা আরও একজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
জানা গেছে, সোনামণি পাবনার ঈশ্বরদীর পশ্চিম টেংরী এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে। তিনি ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
পুলিশ জানায়, লালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আল মাসুমের নেতৃত্বের পুলিশের একটি দল সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বানেশ্বর-ঈশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়কে তল্লাশি শুরু করে। এ সময় উপজেলার ২ নম্বর ঈশ্বরদী ইউনিয়নের পালিদেহা এলাকায় মো. আক্কাস মেম্বারের বাড়ির সামনে লালপুর থেকে ঈশ্বরদীগামী একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কারে থাকা যাত্রীদের দেহ তল্লাশি করে বিদেশি একটি পিস্তল, ১০টি গুলি, লোহার তৈরি কালো রঙের দুটি ম্যাগাজিন ও ছয়টি মোবাইল ফোন সেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একজন পালিয়ে যান।
জানা যায়, মাহমুদ হাসান সোনামণি পাবনার ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই ও রাজনৈতিক সহযোগী ছিলেন। জাকারিয়া পিন্টুর সঙ্গে তিনিও ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর এলাকার রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তবে তিনি দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এবং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও দলীয় সংঘর্ষের কারণে দল থেকে বহিষ্কার হন। তিনি ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযান চলাকালে অজ্ঞাতনামা একজন পালিয়ে যান। পলাতক ওই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।