নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসকের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাপ্রার্থীরা। জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ, বিভিন্ন ভাতার আবেদন ও জমিজমা-সংক্রান্ত কাজের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে এসে প্রশাসককে না পেয়ে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন। এতে ক্ষুব্ধ ইউনিয়নবাসী প্রশাসকের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা অথবা পদচ্যুত চেয়ারম্যানকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।
পাবনার ভাঙ্গুড়া থেকে জন্মনিবন্ধনের সনদ সংগ্রহ করতে জোনাইল ইউনিয়ন পরিষদে এসেছিলেন গৃহবধূ জহুরা বেগম। তাঁর বাবার বাড়ি জোনাইলে। সন্তানের জন্মনিবন্ধনের জন্য মা-বাবা উভয়ের জন্মনিবন্ধন প্রয়োজন হওয়ায় তিনি কয়েকবার ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। কিন্তু প্রশাসককে না পেয়ে প্রতিবারই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তাঁকে।
সরেজমিন বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে কথা হয় চামটা বাগবাচ্চা গ্রামের বাসিন্দা লিটন গমেজের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কয়েকবার ইউনিয়ন পরিষদে এসেছি। কিন্তু প্রশাসক না থাকায় বারবার ফিরে যেতে হচ্ছে।’
গুরুদাসপুর থেকে ওয়ারিশ সনদ নিতে আসা লাকি বেগম বলেন, ‘সনদ প্রস্তুত হলেও প্রশাসকের স্বাক্ষরের জন্য কয়েক দিন পর আসতে বলা হয়েছে। বাধ্য হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে উপজেলা পরিষদে গিয়ে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করছি।’
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১১ জুন উপজেলার দিঘইর গ্রামে একটি হত্যা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে হুকুমের আসামি করা হয়। এরপর গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এ অবস্থায় চেয়ারম্যানকে অনুপস্থিত দেখিয়ে একই বছরের ১৬ জুলাই জেলা প্রশাসক পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেন। পরে তিনি বদলি হলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রেজাউল করিমকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে সমাজসেবা কর্মকর্তা সপ্তাহে মাত্র এক দিন ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন। অনেক সময় সেটিও সম্ভব হয় না। ফলে ইউনিয়নবাসী প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ইউপি সচিব সঞ্চয় কুমার চাকী বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক সপ্তাহে এক দিন অফিস করেন। বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রয়োজনে উপজেলা পরিষদে গিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে আনতে হয়। এতে জনগণকে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘জোনাইল ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে কোনো চেয়ারম্যান নেই। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে সাধারণ মানুষের কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’