হোম > সারা দেশ > নরসিংদী

রায়পুরায় সজল হত্যা: মামলা নয়, সালিসে ২০ লাখ টাকা জরিমানার অভিযোগ

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি 

প্রতীকী ছবি

নরসিংদীর রায়পুরায় কদম ফুল পাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে আহত যুবক সজল ১৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে সালিসের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করে বিষয়টি মীমাংসার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি উপজেলার চরাঞ্চলের পাড়াতলী ইউনিয়নের সোনাবালুয়া গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে সোনাবালুয়া গ্রামের মোবারক মিয়ার ছেলে সজল মিয়ার (১৮) সঙ্গে একই এলাকার মোক্তার হোসেনের কদম ফুল পাড়া নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মোক্তার ও তাঁর সহযোগীরা লাঠি দিয়ে সজলের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।

মাথার বাঁ পাশে গুরুতর জখম অবস্থায় সজলকে প্রথমে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে টানা ১৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১২ জুন সজল মারা যান। গতকাল শনিবার রাতে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সজলের মৃত্যুর পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত পক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে এবং থানায় মামলা না করার জন্য বাধা দেয়। একপর্যায়ে মরদেহ দাফনের আগেই সালিস বৈঠকের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা প্রদানের শর্তে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়।

জানা গেছে, পাড়াতলী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ইউসুফ মিয়ার নেতৃত্বে ওই সালিস অনুষ্ঠিত হয়। সালিসে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি অভিযুক্তদের ২০ লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত দেন এবং ভবিষ্যতে এ ঘটনায় মামলা না করার পরামর্শ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আজ রোববার দুপুরে সজলের বাড়িতে গিয়ে তাঁর মা-বাবাকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর বড় বোন জেসমিন বলেন, ‘আমার ভাইকে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে মোক্তার হোসেন। মেম্বার এবং এলাকার কিছু লোক ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি মীমাংসা করে দিয়েছে। কিন্তু এখনো আমরা কোনো টাকা হাতে পাইনি।’

জেসমিন আরও বলেন, ‘২০ লাখ টাকার বিনিময়ে কি আমার ভাইকে ফিরে পাব? আমার ভাই বেঁচে থাকলে এর চেয়ে অনেক বেশি আয় করতে পারত। তার জীবন তো সবে শুরু হয়েছিল।’

স্থানীয়দের দাবি, একটি হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধ সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা আইনের শাসন ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এলাকায় গিয়ে অভিযুক্ত মোক্তার হোসেন এবং তাঁর পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সালিসের মাধ্যমে মীমাংসার বিষয়টি স্বীকার করেছেন পাড়াতলী ইউপি সদস্য ইউসুফ মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি এবং এলাকার কয়েকজন মিলে বিষয়টি মীমাংসা করেছি।’ তবে হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির কোনো আইনি বৈধতা আছে কি না, এ প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি তিনি।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি। হত্যার ঘটনা আপসযোগ্য নয়। ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। তারা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জমির বিরোধে তিন বছর গৃহবন্দী প্রতিবন্ধী কামরুন নাহার

আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল আমার পেছনে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

‎রায়পুরায় বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনীতে প্রথম গোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয়

নরসিংদীর শিবপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত অন্তত ২০

রায়পুরায় বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী

নরসিংদীর বেলাবতে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই কিশোর নিহত

নতুন রূপে ফিরল ‘বাংলার ঈগল’, রায়পুরায় বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ভাস্কর্য উদ্বোধন

‘সবাই ভিডিও করছিল কেউ এগিয়ে আসেনি’

১০ বছরের নাতনিকে ধর্ষণচেষ্টা দাদার, প্রতিবাদ করায় বাবার বিরুদ্ধে মামলা

নরসিংদীতে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা