আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশের মতো নরসিংদীতেও পশুর মালিকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। গরু-ছাগল বেচাকেনার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এবার নরসিংদীতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘মানিক’ ও ‘রতন’ নামের দুটি অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের গরু। গরু দুটি রায়পুরা উপজেলার চরমধুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহসান শিকদারের গ্রিন অ্যাগ্রো ফার্মে লালন-পালন করা হচ্ছে। খামারের মালিকের ঘোষণা, মানিক বা রতন কিনলে সঙ্গে ফ্রি দেওয়া হবে একটি খাসি।
আহসান শিকদার পেশায় একজন বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা ও চরমধুয়া ইউপি চেয়ারম্যান। তিনি ২০১৪ সাল থেকে খামারে গরু-মহিষ লালন-পালন করছেন। বর্তমানে তাঁর খামারে গরু ও মহিষ মিলিয়ে প্রায় ২০০টি পশু রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিবছর আলোচনায় থাকে খামারটি।
বিশাল আকৃতির মানিক ও রতনকে দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসছেন খামারে। খামারটিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে।
নরসিংদী সদরের দর্শনার্থী তুষার বলেন, ‘গ্রিন অ্যাগ্রো ফার্ম সব সময় নরসিংদীর আলোচনায় থাকে। এখানে জেলার সবচেয়ে বড় গরু পালন করা হয়। প্রতিবছরই আমরা গরু দেখতে আসি। আজও কয়েকজন বন্ধু মিলে এসেছি। জেলার আরও কয়েকটি খামারে গিয়েছি, তবে এখানের মতো বড় গরু আর কোথাও দেখিনি।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মানিক ও রতনকে ঘিরে ইতিমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহায় গরু দুটি হাটে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশাল দেহের পাশাপাশি গরু দুটি শান্ত স্বভাবের হওয়ায় দর্শনার্থীদের কাছেও বেশ প্রিয়।
খামারের মালিক আহসান শিকদার বলেন, ‘মানিকের ওজন প্রায় এক হাজার কেজি এবং রতনের ওজন প্রায় ৯৫০ কেজি। মানিকের দাম ১২ লাখ টাকা এবং রতনের দাম ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছি। কেউ চাইলে আলাদাভাবে কিংবা একসঙ্গে কিনতে পারবেন। দুই ক্ষেত্রেই খাসি ফ্রি দেওয়া হবে।’
আহসান শিকদার জানান, গরু দুটির বয়স প্রায় তিন বছর। মানিককে বাইরে থেকে কেনা হলেও রতন তাঁদের খামারের পালিত গাভি থেকে জন্ম নেওয়া। প্রাকৃতিক ঘাস ও পুষ্টিকর খাদ্যের মাধ্যমে গরুগুলোকে লালন-পালন করা হচ্ছে। খামারে নিজস্ব মেশিনে ২৫ ধরনের উপাদান ব্যবহার করে পশুখাদ্য প্রস্তুত করা হয়।
নরসিংদী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ছাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রিন অ্যাগ্রো ফার্ম সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। এটি জেলার অন্যতম সফল খামার। আহসান শিকদার নিয়মিত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। আমরা তাঁর খামারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি।’