নওগাঁয় জামায়াত ইসলামী ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের মাখনা কোমলগোটা গ্রামে এ সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। বিএনপির দাবি, প্রচারণা চালাতে গিয়ে জামায়াত কর্মীরা রান্নাবান্নার আয়োজন করেছিল। সেটির ভিডিও করতে গেলে সংর্ঘষ বাঁধে। অন্যদিকে জামায়াতের দাবি, খাবারের কোন আয়োজন ছিল না।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জামায়াতের প্রার্থী আ স ম সায়েম আজ মাখনা কোমলগোটা গ্রামে প্রচারণা চালাতে যান। সেখানে জামায়াতের কর্মী শহীদ মোল্লার বাড়িতে দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রচারণা শেষে জামায়াত প্রার্থীসহ কর্মী-সমর্থকরা সেখানে বিশ্রাম করছিলেন। এ সময় গোপাই গ্রামের বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা তাদের খাবারের ভিডিও ধারণ করতে গেলে দুইপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ নেতা-কর্মী আহত হন। ঘটনার খবর পেয়ে হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের বিএনপি নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জামায়াত নেতা-কর্মীদের আটকে রাখেন। পরে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় আহত বিএনপি কর্মী রাকিব হাসান বলেন, জামায়াতের কর্মীরা খাবারের রান্নাবান্নার আয়োজন করে। আমরা দুই তিনজন রান্নার ভিডিও করতে গেলে তারা আমাদেরকে বাধা দেয়। পরে জামায়াতের ৫০-৬০ জন এসে আমাদের উপর আক্রমণ করে। কয়েকদিন আগে আমরা আমাদের এমপি প্রার্থীর আগমনকে কেন্দ্র করে খাবারের আয়োজন করেছিলাম। সেখানে গিয়ে জামায়াতের নেতারা বাধা প্রদান করে এবং আমাদেরকে আয়োজন করতে দেয় না।
আহত জামায়াত কর্মী হাসান প্রামানিক বলেন, আমাদের প্রার্থী প্রচারণা শেষে বিশ্রাম নিচ্ছিল। এ সময় পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকজন ছেলে বাড়ির আশেপাশে ভিডিও করে। তারা দাবি করে, আমরা নাকি খাবারের আয়োজন করেছি। কিন্তু ওখানে কোন খাবারের আয়োজন ছিল না। তারা এসব বলে পরিবেশ উত্তপ্ত করে।
নওগাঁ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম বলেন, গণসংযোগ শেষে বিকেলে জামায়াতের প্রার্থী একটি বাড়িতে বিশ্রাম করছিলেন। এসময় বিএনপির সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যার উদ্যেশ্যে পাইপ নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা করে। হামলায় জামায়াতের ৮ কর্মী আহত হয়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, জামায়াতের লোকেরা হামলা করে আমাদের দুইজনকে আহত করাসহ মোবাইল ফোন ভাঙচুর করেছে। বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমাদের ছেলেদের কাছ থেকে ঘটনার সত্যতা জানতে পারি। তিনি আরও বলেন, এলাকাটি প্রত্যন্ত। কিছুদিন আগে ধানের শীষ প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু ওই এলাকায় প্রচারনায় গিয়েছিলেন। সেখানে স্থানীয় বিএনপি নেতা জালাল খাবারের আয়োজন করেছিল। কিন্তু জামায়াতের লোকজন প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করায় ম্যাজিস্ট্রেট আসে। প্রায় ২০০ লোক খাবারগুলো না খাওয়া নষ্ট হয়ে যায়। জামায়াতের লোকজন আজ খাবারের আয়োজন করে। সেখানে আমাদের ছেলেরা গিয়ে খাবারের ভিডিও করার সময় জামায়াতের লোকজন মারধর করে এবং মোবাইল ভাঙচুর করে। এতে দুইজন আহত হয়েছে।
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যে যার মতো ঘটনাস্থল থেকে চলে গেছে। এঘটনায় কোন পক্ষই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।