রাজীব পরিবহনের বাস বন্ধের দাবিতে ময়মনসিংহে আড়াই ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার দুপুর একটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত নগরীর দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় দ্বিতীয় দফায় সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
অবরোধের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ হয়ে জামালপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর ও কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়ে। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
গতকাল রোববার চুরখাই এলাকায় রাজীব পরিবহনের বাসচাপায় নটর ডেম কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী জাকিরুল ইসলাম ও গত ২ অক্টোবর দুপুরে নগরীর রহমতপুর বাইপাস সড়কের দাপুনিয়া হাড়গুজির পাড় এলাকায় রাজীব পরিবহনের সঙ্গে সংঘর্ষে ৭ জন নিহতের ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া এসব ঘটনার আগে থেকে রাজীব পরিবহনের অতিরিক্ত গতি ও একের পর এক দুর্ঘটনার কারণে পরিবহনটি বন্ধের দাবি উঠেছিল।
এ সময় রাজীব পরিবহনের তিনটি বাস আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি পরিবহনটির রুট পারমিট বাতিল ও দায়ী চালকদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধের পর সাধারণ যাত্রীদের কথা চিন্তা করে সড়ক থেকে সরে আসে শিক্ষার্থীরা। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে শিক্ষার্থীরা আবার সড়ক অবরোধ করে বলে জানান ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, সড়ক অবরোধ ছাড়ার পর কয়েক মিনিটের ব্যবধানে শিক্ষার্থীরা আবার সড়ক অবরোধ করে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থী হাসান জাকির এবং তোফায়েল আহমেদ জানান, আগামীকাল সকাল ১১টার মধ্যে রাজীব পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল, দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং সড়কে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
গতকাল সদরের চুরখাই এলাকায় রাজীব পরিবহনের বাসচাপায় নটর ডেম কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী জাকিরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। জাকিরুলের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, সড়কে এমন দুর্ঘটনা আর দেখতে চান না তাঁরা। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ময়মনসিংহ জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি আলমগীর মাহমুদ বলেন, সড়ক অবরোধের ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, আমি শুধু জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি না। আমি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহনের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক। ওই দায়িত্ব থেকে রাজীব পরিবহনসংশ্লিষ্টদের চিঠি দেব, যেন তাঁরা সড়কে সুশৃঙ্খলভাবে গাড়ি চালান। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে অবশ্যই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।