দীর্ঘ ৪৭ বছর পর আবারও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশালের ঐতিহাসিক ধরার খাল। যে খাল একসময় খনন করেছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সেই খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করতে আজ শনিবার (২৩ মে) ত্রিশালে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সফরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালারও উদ্বোধন করবেন তিনি।
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের দরিয়ারপুর গ্রামের ধরার খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টিকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ব্যক্তিগত সফরে ত্রিশালে এসে স্থানীয় ‘ধরার খাল’ বা বৈলর খালের পরিমাপ ও খনন কার্যক্রমে যুক্ত হন। তবে এর আগেই ১৯৭৬-৭৭ সালে দেশব্যাপী যে ব্যাপক খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছিল, ত্রিশালের এ খালও ছিল সেই কর্মসূচির অংশ।
তিনি আরও বলেন, বাবার খনন করা খালের পুনঃখননের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পর তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলবেন। পরে নজরুল একাডেমির ডাকবাংলোয় বিশ্রাম নিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় নজরুল জন্মজয়ন্তীর তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে অডিটরিয়ামে জেলার বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
দুই দশক পর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বাল্য স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জন্মজয়ন্তীর রাষ্ট্রীয় আয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে পুরো এলাকায় এখন উৎসবের আমেজ। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ সফর ঘিরে উন্নয়ন ও সংস্কারের নতুন ঘোষণা আসবে।
১৯১৪ সালে দারোগা রফিজ উল্লাহ আসানসোলের একটি রুটির দোকান থেকে কিশোর নজরুল ইসলামকে ময়মনসিংহের ত্রিশালের কাজীর শিমলা গ্রামে নিয়ে আসেন। সেখানে একটি বৈঠকখানায় থাকতেন নজরুল। পাশের পুকুরে গোসল করতেন, ছুটে বেড়াতেন গ্রামজুড়ে।
পরে তাঁকে দরিরামপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। স্কুলটি বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় বর্ষাকালে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হতো তাকে। পরে নামাপাড়া বিচুতিয়া ব্যাপারী বাড়িতে লজিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় অভিমান করে কাউকে কিছু না জানিয়ে কুমিল্লায় চলে যান নজরুল। এরপর আর কোনো দিন ত্রিশালে ফিরে আসেননি তিনি।
নজরুলের স্মৃতি ধরে রাখতে কাজীর শিমলা দারোগা বাড়ি ও বিচুতিয়া ব্যাপারী বাড়িতে গড়ে তোলা হয়েছে দুটি নজরুল স্মৃতি কেন্দ্র। তবে জনবলসংকট ও অবকাঠামোগত নানা সমস্যায় কেন্দ্র দুটি এখন অনেকটাই অবহেলিত।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান জানান, কবি নজরুলের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দরিরামপুর স্কুল মাঠে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে থাকবে আলোচনা সভা, নজরুল মেলা, বইমেলা, নাচ, গান, আবৃত্তি ও পালাগান। একই সঙ্গে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থাও।