নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছরের শিশু ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে সাগরকে আদালতে হাজির করে পুলিশ ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন জানায়। পরে নেত্রকোনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিনা ইসলাম ওই আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
নেত্রকোনা কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২ অক্টোবর বিকেলে ক্লাস শেষে সাগর ওই শিশুকে মাদ্রাসা-সংলগ্ন মসজিদে ঝাড়ু দিতে বলেন। অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার পর তিনি শিশুটিকে নিজের কক্ষ পরিষ্কার করতে বলেন। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, বিষয়টি কাউকে জানালে শিশুটিকে মারধর ও মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ১৮ এপ্রিল শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে তার মা স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এরপর গত ২৩ এপ্রিল অভিযুক্ত সাগর ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে মদন থানায় মামলা করেন শিশুটির মা। মামলায় সাগরের ভাইয়ের বিরুদ্ধে ঘটনা গোপন রাখতে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
পরে গত ৫ মে র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে সাগরকে গ্রেপ্তার করে। গত বৃহস্পতিবার আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক সাগরকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে আজ দুপুরে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সাথে তাঁর ডিএনএ পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ মামলার সাগরের ভাই আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।