ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা এলাকায় এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল মিল ও আরএস অ্যাগ্রোর অবৈধ ড্রেনেজ লাইন স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভরাডোবা ও আশপাশ এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল মিল ও আরএস অ্যাগ্রোর অবৈধ ড্রেনেজ লাইনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে শিল্পবর্জ্য ও দূষিত পানি আশপাশের কৃষিজমি, খালবিল ও জলাশয়ে যাচ্ছে। এতে প্রায় ৩৩৫ একর কৃষিজমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে, ফসল উৎপাদন কমে গেছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, বহুবার প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রশাসনিক তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে গত ১৫ বছরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ ক্ষতিপূরণ এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল মিল এবং বাকি ২৫ শতাংশ আরএস অ্যাগ্রো লিমিটেডকে পরিশোধের সুপারিশ করা হয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন নুরুল ইসলাম ফকির, শামছুদ্দিন মণ্ডল, স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহাদাত হোসেন মানিক, মোহাইমিনুল ইসলাম, আবুল বাশার, মনির তালুকদারসহ আরও অনেকে।
বিক্ষোভকারীরা তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল মিলের অবৈধ ড্রেনেজ লাইন কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে, প্রশাসনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রায় ৩৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিবেশদূষণ ও কৃষিজমি ধ্বংস রোধে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, তাঁরা কোনো সংঘাত চান না, তাঁরা চান ন্যায্য অধিকার ও ন্যায়বিচার। কৃষকের জীবিকা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব।
তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।