মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে সরকারি খালসহ ৪ একর কৃষিজমি ভরাট করে আবাসনের জন্য প্লট নির্মাণ করে বিক্রি করা হচ্ছে। মসজিদের নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে আড়ালে চলছে এ কার্যক্রম। উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামে জমি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে পাশের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের কবির হোসেন তালুকদার ও বালিগাঁও উচ্চবিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির শিক্ষক মোহাম্মদ নেছার উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরজেমিনে দেখা যায়, নূর ফাতিমা জামে মসজিদের নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। তবে সাইনবোর্ডে মসজিদের নাম থাকলেও বাস্তবে সেখানে কোনো মসজিদ নেই। প্রকল্পের এলাকা টিনের বেড়া দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে, যাতে রাস্তা দিয়ে কেউ গেলে দেখে কিছু বোঝা না যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছর কৃষিজমি আবাদের নামে হারুন তালুকদার, ইলিয়াস তালুকদার, সাফাজ উদ্দিন তালুকদার, শফি সারেং নামের কয়েকজনের কাছ এসব কৃষিজমিগুলো ক্রয় করে নেওয়া হয়। তবে এর কয়েক মাস পর থেকে শুরু হয় শ্রেণি পরিবর্তনের তোড়জোড়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ করে’ দিনরাত প্রকল্পটির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি।
এলাকাবাসী, মুসল্লি ও কৃষকেরা বলছেন, গ্রামটির কৃষিজমিগুলো নষ্ট করা হচ্ছে। মসজিদের নাম বিক্রি করে এ কাজ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনকে টাকা দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।
খননযন্ত্রের (ড্রেজার) মালিক শাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি পুরো জমি ভরাটের জন্য কন্ট্রাক্ট নিয়েছি নেছার উদ্দিন ও কবির হোসেনের কাছ থেকে। এ ছাড়া আমি কিছু জানি না।’ তিনি বলেন, ‘আমাকে টাকা দেয় আমি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে পকেট করা জমিতে ফেলে দেই।’
অভিযুক্ত মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন বলেন, ‘আমাকে এক দিন কবির ভাই ওই জমিতে নিয়ে যায়, তবে আমি এই জমির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই।’ এ সময় তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনে মোবাইল ফোনে নয় সরাসরি দেখা ও কথা বলার জন্য প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে তড়িঘড়ি করে ফোনটি রেখে দেন অভিযুক্ত নেছার উদ্দিন।
কবির হোসেন বলেন, ‘কৃষিজমি ভরাট নিয়ে একটু ঝামেলা চলতাছে প্রশাসনের সঙ্গে। তবে আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। আশা করছি প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আবারও কাজ ধরব।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাসান-উদ-দৌলা বলেন, এই উপজেলাটি নদীতীরবর্তী হওয়ায় নদীভাঙন, খাল দখল, জলাবদ্ধতা ও কৃষিজমি ভরাটের কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিবছর শুধু কৃষি খাতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়ে আসছে, যা দেশের জন্য ব্যাপক ক্ষতিসাধন। তাই দ্রুত খাল খনন করা ও কৃষিজমিগুলোর যেন শ্রেণি পরিবর্তন না করতে পারে সে দিকে খেয়াল রাখা উচিত।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, ‘এমন একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছিলাম, তখন সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করা হয়েছে। এরপর আবার কাজ চালু করেছে কি না, এটি জানা নেই।’