মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলাদলের সাবেক নেত্রী জাহানারা বেগমের মালিকানাধীন একটি ক্লিনিক দখল, ভাঙচুর এবং সেখানে দোকান নির্মাণ করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার জেলা পরিষদ মার্কেটের ‘মডার্ন ক্লিনিক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান দখল করে ভেঙে ফেলার পর সেখানে দোকানঘর নির্মাণ ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের ১ নম্বর কার্যকরী সদস্য মো. রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় ক্লিনিকটির প্রকৃত মালিক দাবিদার উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহানারা বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্যদিকে রাজু আহমেদের চাচা রিপন শেখ পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন।
জানা গেছে, জেলা পরিষদ নিউমার্কেটের একতলা ভবনে ‘মডার্ন ক্লিনিক’ প্রতিষ্ঠা করেন এম এইচ আব্দুস সালাম। পরে ২০১৪ সালে জাহানারা বেগমসহ ৬৭ জন মিলে প্রায় ৩০ লাখ টাকায় চুক্তির মাধ্যমে ক্লিনিকটির স্বত্ব কিনে নেন। পরে ক্লিনিকটি কার্যক্রম চালু থাকাকালে ডি এম মোল্লা নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার দখলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্লিনিকটির নিয়ন্ত্রণ নেন যুবদল নেতা রাজু আহমেদ। এরপর ক্লিনিকের অবকাঠামো ভেঙে সেখানে ছোট ছোট দোকান নির্মাণ করে বিক্রি শুরু করা হয় বলে দাবি করা হয়। ইতিমধ্যে দুটি দোকান বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।
জাহানারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বৈধভাবে ক্রয় করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চলছে। থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি, বরং উল্টো ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
জাহানারা বেগম বলেন, তিনি উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। এখন নিজের দলের কিছু লোক তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
এই ঘটনার জেরে ১৩ মে দুপুরে শ্রীনগরের জেলা পরিষদ মার্কেটের ডাকবাংলা মোড় এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জাহানারা বেগমের স্বামী বারেক বাবুল, ব্যবসায়ী আলমগীর মোল্লা আসলামসহ কয়েকজন আহত হন। ওই সময় আসলামের অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও ওঠে।
অন্যদিকে পাল্টা হামলায় হৃদয় শেখ, আফ্রিদি শেখ ও বাধন ভূঁইয়া আহত হন। গুরুতর আহত হৃদয় শেখ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ব্যবসায়ী আলমগীর মোল্লা আসলাম বলেন, ‘এই মার্কেটে আমারও বৈধ শেয়ার রয়েছে। জাল কাগজপত্র তৈরি করে যুবদল নেতা রাজুর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা চলছে। পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা যুবদলের ১ নম্বর কার্যকরী সদস্য রাজু আহমেদ। তিনি বলেন, তিনি ক্লিনিক দখল, ভাঙচুর কিংবা দোকান নির্মাণ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত নন। তাঁর দাবি, ডিএম মোল্লা নামে এক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের মালিক। ঘটনার দিন দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল এবং মালিকানা ও চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা বলেন, জাহানারা বেগম ও রিপন শেখের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।