মৌলভীবাজারে তীব্র গরমের মধ্যে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। জেলা শহরসহ সাত উপজেলায় সপ্তাহের সাত দিনই লোডশেডিং চলায় ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ৫ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক। শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। বিদ্যুৎ-নির্ভর স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
আশ্বিনের তীব্র গরমের পাশাপাশি সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও রাতে লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গ্রাহকেরা। অতিরিক্ত গরম ও বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, দৈনিক চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। শুক্রবার বিকেল ৩টায় জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৯৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ৭১ মেগাওয়াট।
শহীদনগর বাজারের কারখানার মালিক হেলাল মিয়া বলেন, ‘অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে আমরা কাজ করতে পারছি না। দিন-রাত সমানভাবে লোডশেডিং হচ্ছে। ঘনঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় যন্ত্রপাতির ক্ষতি হচ্ছে।’
শিক্ষার্থী ফয়ছল আহমেদ বলেন, ‘একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে ভয়াবহ লোডশেডিং—এই দুইটা মিলে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে। নভেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পড়ালেখা করতে পারছি না।’
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে তাপমাত্রা কমে আসবে। সাধারণত ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর নিচে তাপমাত্রা নেমে এলে আমরা শীত মৌসুমের আগমন মনে করি। তখন বিদ্যুতের চাহিদা কমার পাশাপাশি লোডশেডিংও কমে যাবে।’
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। আগে মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা কম ছিল, এখন আগের তুলনায় কয়েক গুণ চাহিদা বেড়ে গেছে। অথচ বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়েনি। এ অবস্থায় ভারসাম্য রক্ষা করতে আমাদের লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।’