মৌলভীবাজারে জ্বালানি সংকটের তীব্র প্রভাব পড়েছে কৃষিতে। ডিজেলের অভাবে আউশ ধান আবাদ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বোরো মৌসুমে ধান কাটা, মাড়াই ও পরিবহন নিয়েও চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।
কৃষকেরা জানান, আউশ ধানের বীজতলা তৈরি, জমি ভাঙা ও হালচাষের পাশাপাশি বোরো ধান কাটা—এসব কাজে ব্যবহৃত বেশির ভাগ কৃষিযন্ত্রই ডিজেলচালিত। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে এসব যন্ত্র চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
জানা গেছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে এলাকায় ডিজেলের সরবরাহ কমে গেছে। শহরের কিছু পেট্রলপাম্পে সীমিত পরিসরে তেল বিক্রি হলেও গ্রামীণ ছোট দোকানগুলোতে তেল বিক্রি প্রায় বন্ধ। এতে চলতি মৌসুমে আগাম বৃষ্টি হলেও কৃষকেরা আউশ ধানের বীজতলা তৈরি ও জমি চাষের কাজ শুরু করতে পারছেন না।
একই সংকট দেখা দিয়েছে বোরো ধান কাটার সময়েও। বিশেষ করে হাওর এলাকায় এখন বোরো ধান কাটার মৌসুম। কিন্তু হারভেস্টার মেশিন, মাড়াইয়ের মেশিন ও পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত যানবাহন—সবই ডিজেলচালিত হওয়ায় জ্বালানির অভাবে কৃষকেরা সময়মতো ধান ঘরে তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।
আউশ ধানচাষিরা জানান, এ বছর চৈত্র মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে এবং এখনো বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে আউশ ধানের বীজতলা তৈরির উপযুক্ত সময় চলছে। কিন্তু ডিজেল সংকটের কারণে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করা যাচ্ছে না।
বোরোচাষিরা বলেন, বৈশাখের শুরু থেকেই হাওরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। হাওরে সাধারণত একসঙ্গে ধান কাটা হয়। কিন্তু তেলসংকটের কারণে হারভেস্টার ও মাড়াইয়ের মেশিন পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি শ্রমিক সংকটও রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। আর বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর। আউশ আবাদে উৎসাহ দিতে ৫৪ হাজার কৃষককে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে হাওর এলাকায় পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে।
রাজনগর উপজেলার হারভেস্টার মেশিনের মালিক জুবের আহমদ বলেন, ‘এই সময়ে আমার মেশিন হাওরে ধান কাটার কথা। কিন্তু তেলসংকটে এখনো যেতে পারিনি। একটি মেশিন চালাতে প্রতিদিন অন্তত ৮০ থেকে ১০০ লিটার ডিজেল লাগে। এই তেল কোথা থেকে পাব?’
রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরের কৃষক আলমাস মিয়া বলেন, ‘আমার ধান পেকে গেছে। ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাচ্ছি না, আবার তেলসংকটে মেশিনও আসছে না। পরিবহনের জন্য গাড়িও নেই। সব মিলিয়ে মহাবিপদে পড়ে গেছি।’
আরেক কৃষক মিজান আহমেদ বলেন, ‘আউশ ধানের বীজতলা তৈরির জন্য ট্রাক্টর পাচ্ছি না। যাদের ট্রাক্টর আছে, সবাই বলছেন তাদের কাছে তেল নেই। সময়মতো আউশ আবাদ না হলে উৎপাদন কমে যাবে।’
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। পাম্পের মালিকদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। এখন বোরো ধান কাটার সময়, হাওরে পুরোদমে ধান কাটা চলছে। একই সঙ্গে আউশ ধানের বীজতলা তৈরির সময়ও চলছে।’