হোম > সারা দেশ > মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার: আইন ভেঙে বনে পাকা ঘর

মাহিদুল ইসলাম, মৌলভীবাজার

সংরক্ষিত বনের টিলা কেটে নির্মিত পাকা ঘর। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের রাজকান্দি রেঞ্জ এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

প্রায় ৫৩ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়। এই বনভূমি দেখভালের জন্য শত বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা থাকছে। আইনে রয়েছে, বনের ভেতরে পাকা স্থাপনা বা ঘর তৈরি করা যাবে না। তবে কয়েক বছর ধরে সেই আইন উপেক্ষা করে অবৈধভাবে পাকা ঘর তৈরি করছে অনেকে। অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে পাকা এসব বাড়ি নির্মিত হচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শত বছর ধরে স্থানীয়রা বনে কাঁচা ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে। তবে কয়েক বছর ধরে পাকা ঘর নির্মাণের প্রবণতা বেড়েছে। অনেকে বনের টিলা কেটে ঘর নির্মাণ করেছে। এতে করে কমেছে বন্য প্রাণীর অবাধ বিচরণ। একই সঙ্গে ঝুঁকি রয়েছে বনভূমি ধসের।

রেঞ্জ কর্মকর্তারা বলেন, আগে বনের ভেতর কিছু পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এখন পাকা ঘর নির্মাণ করতে দেওয়া হয় না। যারা আইনের তোয়াক্কা না করে পাকা ঘর নির্মাণ করেছেন, এমন অনেকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। বনে পাকা ঘর, পাকা রাস্তা নির্মাণ করায় নিষেধ রয়েছে।

বন বিভাগ জানায়, জেলার রাজকান্দি, কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা রেঞ্জসহ জেলায় প্রায় ৫৩ হাজার একর সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে। এসব বনে হাজার হাজার পরিবার রয়েছে। বনের ভেতর পাকা ঘর বা স্থাপনা তৈরি করা নিষেধ রয়েছে। তবে কিছু পাকা ঘর আগে তৈরি করা হয়েছে। নতুন করে কেউ পাকা ঘর নির্মাণ করলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে আপত্তি ও মামলা করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন বিভাগের সঙ্গে যোগসাজশে কয়েক বছরে শতাধিক পাকা বাড়ি নির্মিত হয়েছে। বন বিভাগের লোকজনের সামনেই এসব ঘর তৈরি হয়েছে।

রাজকান্দি রেঞ্জের ভেতরে বসবাসরত সালাম আহমেদ, শাহিদ মিয়া বলেন, ‘বনের ভেতর শুধু পাকা ঘর নির্মাণের সংখ্যা বাড়ছে না; একই সঙ্গে পাকা রাস্তা তৈরি হচ্ছে। এসব কাজে কখনো বন বিভাগের অনুমতি থাকে, আবার কোথাও থাকে না। তবে বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া পাকা ঘর বানানোর কেউ সাহস করবেন না।’

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, ‘সংরক্ষিত বনের ভেতরে পাকা স্থাপনা বা ঘর তৈরি করা যাবে না। স্থানীয় যাঁরা বসবাস করছেন, তাঁদের জানা রয়েছে, বনের ভেতর কী করা যাবে, আর কী করা যাবে না। কেউ আইন অমান্য করে সংরক্ষিত বনে কোনো পাকা ঘর নির্মাণ করলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, সংরক্ষিত বনে হরিণ, উল্লুক, হনুমান, শূকরসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও পাখির আবাসস্থল। বনের মধ্যে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনা তৈরি বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনে জাতীয় পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, ‘যাঁরা বনের সংরক্ষিত এলাকায় বসবাস করছেন, তাঁরাই পাকা ঘর নির্মাণ করছেন। বনের ভেতর পাকা স্থাপনার ফলে বনের পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বন বিভাগ এসব বিষয় নিয়ে শক্ত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। এ ছাড়া বন থেকে গাছ-বাঁশ উজাড় হচ্ছে। এতে করে বনের পরিবেশ ও প্রাণীদের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।’

যোগদানের সাত দিনের মাথায় মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার প্রত্যাহার

আইন ভেঙে সংরক্ষিত বনে পাকা ঘর নির্মাণের হিড়িক

মৌলভীবাজারে নদীতে ভেসে আসা ভারতীয় নাগরিকের লাশ হস্তান্তর

অনুপ্রবেশের সময় ভারতীয় দম্পতি আটক

মৌলভীবাজারে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যজীবীদের তালিকা প্রস্তুত হচ্ছে: জেলা প্রশাসক

মৌলভীবাজারে হামে আক্রান্ত ৩ শিশুর মৃত্যু

মৌলভীবাজার: অবাধে উজাড় সংরক্ষিত বন

মৌলভীবাজার সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে ঠেলে পাঠাল বিএসএফ

মৌলভীবাজারে কালবৈশাখীতে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত