মেহেরপুরের গাংনীতে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা এখনো কাটেনি। চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল, পেট্রল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের আরও জোরালো তদারকির দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন গাংনীর বিভিন্ন তেল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। কোথাও কোথাও পাম্প বন্ধও রয়েছে। অনেক চালককে ১০০ থেকে ২০০ টাকার তেলের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, পরিচিত ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি তেল পাচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্তমানে মোটরসাইকেল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত যান। কিন্তু তেল না পাওয়ায় চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেক পাম্পে ১০০ থেকে ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না, আবার কোথাও তেল না থাকায় পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। তেল মজুত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
গাংনীর হোসেন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা তানভীর আহমেদ বলেন, ‘দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মাত্র ১০০ থেকে ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক পাম্প বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।’
কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা সবুজ আহমেদ বলেন, ‘তেল নিতে গিয়ে দেখি পাম্পে কোনো কার্যক্রম নেই। পরে জানতে পারি, সেখানে তেল নেই। আবার কিছু লাইসেন্সধারী পাম্পমালিক পাম্প বন্ধ রেখেছেন। বিষয়টি প্রশাসনের দ্রুত দেখা দরকার।’ তিনি বলেন, মোটরসাইকেলের তেলের জন্য মানুষের মধ্যে যেন হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে।
তেল নিতে আসা টিপু সুলতান বলেন, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ার কারণে কর্মজীবীরা বিপাকে পড়ছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাকরি করি, নিয়মিত কাজের জন্য বের হতে হয়। কিন্তু তেলের জন্য এত সময় নষ্ট হলে কাজ ব্যাহত হয়, আবার অফিসে জবাবদিহিও করতে হয়।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পাম্পকর্মী জানান, তাঁদের পাম্পে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম শাখাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন, যেসব পাম্পে তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।