মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে এখনো মোটরসাইকেলচালকদের লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরম ও রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করায় ভোগান্তিতে পড়ছেন তাঁরা। কৃষকদের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি এলেও অনেকেই চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বেশির ভাগ পাম্পে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ থাকলেও কয়েকটি পাম্পে এখনো সীমিত পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে মোটরসাইকেলচালক ও কৃষকদের লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে। তাঁদের দাবি, প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হলে এ ভোগান্তি কমবে।
তেল নিতে আসা পলাশ আহমেদ বলেন, তেলের দাম বাড়লেও ভোগান্তি পুরোপুরি কমেনি। এখনো লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় ৩০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হয় না। তবে বেশির ভাগ পাম্পে চাহিদা অনুযায়ী তেল মিললেও কয়েকটি পাম্পে সমস্যা রয়েছে।
সাইফুল ইসলাম বলেন, আগে তেল নিতে গিয়ে পুরো দিন লেগে যেত। এখন কিছুটা উন্নতি হয়েছে। অনেক পাম্পে চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া হচ্ছে, তবে কিছু পাম্পে এখনো সীমাবদ্ধতা আছে। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
মো. উদয় আহমেদ জানান, দুই দিন আগে তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে ট্যাংক পূর্ণ করে তেল নিতে পেরেছেন। তবে সব পাম্পে এ সুবিধা না থাকায় এখনো কোথাও কোথাও দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। তাঁর মতে, সব পাম্পে সমানভাবে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ভোগান্তি কমবে।
ডিজেল নিতে আসা কৃষক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, তাঁর জমিতে পাটসহ বিভিন্ন ফসল রয়েছে। সেচের জন্য ১০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হলেও তিনি পেয়েছেন মাত্র তিন লিটার। এতে ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, পরিচিত লোক থাকলে কেউ কেউ বেশি তেল পাচ্ছেন।
আরেক কৃষক বরকত আলী বলেন, তিনি প্রয়োজনীয় তেল পেলেও অনেকেই পাচ্ছেন না। বৃষ্টির অভাবে মাঠে সেচের প্রয়োজন বেড়েছে। সময়মতো পানি না পেলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, যেসব পাম্পে তেল মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, মোটরসাইকেলচালক ও কৃষকদের ভোগান্তি কমাতে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।