মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় জলাতঙ্কে আক্রান্ত সন্দেহে একটি গরু জবাই করে মাংস বিক্রির ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আক্রান্ত এলাকার চারপাশের দুই কিলোমিটার এলাকায় গবাদিপশুর জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে বরাইদ ইউনিয়নের বড়পয়লা গ্রাম ও এর আশপাশের এলাকায় ‘রিং ভ্যাকসিনেশন’ কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, রোগের বিস্তার রোধ ও আশপাশের সুস্থ পশু সুরক্ষায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তানজিলা ফেরদৌসী জানান, জলাতঙ্কের সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় আক্রান্ত এলাকার চারপাশে গবাদিপশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। দিনের মধ্যেই টিকাদান কার্যক্রম শেষ করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করতেও কাজ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়পয়লা গ্রামের বাসিন্দা রমজান ব্যাপারীর একটি গরু ৭ জুন অসুস্থ হয়ে পড়ে। ওই দিন বিকেলে সাটুরিয়া উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন খোকন হোসেন গরুটি পরিদর্শন করে জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ দেখতে পান এবং গরুর মালিককে জবাই বা মাংস বিক্রি না করার নির্দেশ দেন।
খোকন হোসেন বলেন, গরুটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় মালিককে সতর্ক করা হয়েছিল—কোনো অবস্থায়ই যেন মাংস বিক্রি বা খাওয়া না হয়, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
তবে অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে পরদিন ৮ জুন সকালে গরুটি জবাই করা হয়। পরে প্রতি কেজি ৩০০ টাকা দরে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে মাংস বিক্রি করা হয়। কম দামের কারণে অনেকেই বিষয়টি না জেনে মাংস কিনে নেন। পরে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তানজিলা ফেরদৌসী বলেন, গরুটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব ছিল যে সেটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কি না। কিন্তু নির্দেশনা অমান্য করে গরুটি জবাই করায় নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে নিশ্চিতভাবে রোগ নির্ণয় করা যায়নি। তবে প্রাথমিক আশঙ্কার ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে টিকাদান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, যাঁরা গরুটির মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন বা বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁদের বিষয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রয়োজনীয় সতর্কতা মানার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।