নিজের বাবার মৃত্যুবার্ষিকীকে জনসেবামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে স্মরণ করলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। এ উপলক্ষে মানিকগঞ্জে প্রথমবারের মতো আধুনিক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম এবং নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজেরও উদ্বোধন করা হয়।
গতকাল শনিবার সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মানিকগঞ্জের মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চার শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউর উদ্বোধন করেন বিমানমন্ত্রী। একই অনুষ্ঠানে দিনব্যাপী একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পও চালু করা হয়।
সকালে মরহুমের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, কবর জিয়ারত ও বিশেষ দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে প্রধান অতিথি হিসেবে মন্ত্রী মুন্নু মেডিকেল কলেজের নতুন ১০ তলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল করিম এবং হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. জুলফিকার আহমেদ আমিনের উপস্থিতিতে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালের নতুন আইসিইউ ইউনিট চালু ঘোষণা করা হয়।
চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, এই আইসিইউ চালুর ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য আর ঢাকামুখী হতে হবে না। এতে সংকটাপন্ন রোগীরা দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার পাশাপাশি সময়, অর্থ ও ভোগান্তিও কমবে।
এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির মুখপাত্র আ ফ ম নুরতাজ আলম বাহার বলেন, জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি আধুনিক আইসিইউ। সেই চাহিদা পূরণ হওয়ায় সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।
জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক জামিলুর রশিদ খান বলেন, এত দিন সংকটাপন্ন রোগীদের ঢাকায় পাঠাতে গিয়ে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হতো। এখন মানিকগঞ্জেই আইসিইউ সুবিধা চালু হওয়ায় জরুরি চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য হবে।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, তাঁর বাবা মানুষের কল্যাণে কাজ করাকে জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। সেই আদর্শ অনুসরণ করেই তিনি মানিকগঞ্জের মানুষের উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চান।
উল্লেখ্য, হারুনার রশিদ খান মুন্নু ২০১৭ সালের ১ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্যসেবায় তাঁর অবদানের জন্য তিনি এখনো মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। প্রতি বছরের মতো এবারও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়।