হোম > সারা দেশ > মানিকগঞ্জ

জেলের জালে আটকে গেল জীবিত রাসেল ভাইপার, পদ্মাপাড়ে ফের আতঙ্ক

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি  

বিষধর রাসেল ভাইপারটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে দুই বছর পর আবারও জীবিত একটি রাসেল ভাইপার উদ্ধার হওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভোরে হারুকান্দি এলাকার পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গেলে জেলে সুজনের জালে উঠে আসে বিষধর সাপটি। পরে সেটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আন্ধারমানিক এলাকার বাসিন্দা সুজন সোমবার রাতে পদ্মা নদীতে মাছ ধরার জন্য জাল পেতে রাখেন। ভোরে জাল তুলতে গিয়ে সাপটি ধরা পড়ে। আতঙ্কিত না হয়ে তিনি সাপটিকে জীবিত অবস্থায় একটি নেটের মধ্যে রেখে আন্ধারমানিক খেয়াঘাটে নিয়ে আসেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্ধারমানিক খেয়াঘাটে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগকে জানানো হয়।

সুজন বলেন, `সাপটি না মেরে ধরে এনেছি। যদি এটি দেশের কোনো গবেষণার কাজে লাগে, সেই চিন্তা থেকেই সংরক্ষণ করেছি।'

পদ্মাপাড়ের বাসিন্দা আবিদ হাসান বলেন, প্রায় দুই বছর আগে এই এলাকায় একাধিক রাসেল ভাইপার ধরা পড়েছিল। সে সময় জেলেদের জালসহ বিভিন্ন স্থানে সাপটির দেখা মেলে এবং সাপের কামড়ে কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। দীর্ঘদিন পর আবারও জীবিত রাসেল ভাইপার উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

হরিরামপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, "স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশের সহযোগিতায় সাপটি উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় এটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

স্থানীয়দের দাবি, পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে রাসেল ভাইপারের উপস্থিতি নিয়ে নিয়মিত নজরদারি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।