দীর্ঘদিন একই স্কুলে একসঙ্গে কাজ করা ও সহকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা মানুষটির সঙ্গে যখন শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জড়িয়ে যায়, তখন তাঁর বিদায় বেলা যাতে বিষাদময় হয়ে না ওঠে, সে ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন শিক্ষকেরা। আর শিক্ষার্থীরা তো তাদের প্রিয় শিক্ষাগুরুর দুঃখ ভারাক্রান্ত মুখ দেখে অভ্যস্তই নয়। তাই শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনায় তারা শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর নতুনত্বের মিশেল ঘটিয়ে তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মানটুকুই দিতে চেয়েছে। মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জয়মন্টপ উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম পালকে তাই ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে বিদায় জানাল স্কুলের ছাত্র ও শিক্ষকেরা। আর এই অভিনব বিদায় আয়োজনে রীতিমতো অভিভূত শিক্ষক আব্দুস সালাম।
আজ রোববার দুপুরে বিদ্যালয়ের মাঠে শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রথমে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জয়মন্টপ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জয়মন্টপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খান মোহাম্মদ হাবিবুর আলম মোহাম্মদ আলী, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতোয়ার রহমান বাচ্চু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা জাহিদ মোহাম্মদ মহিবুল্লাহসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা আব্দুস সালাম পালের শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন অবদান তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, তিনি শুধু একজন শিক্ষকই নন, একজন আদর্শ মানুষ হিসেবেও শিক্ষার্থীদের কাছে অনুসরণীয়।
আলোচনা সভা শেষে আব্দুস সালাম পালকে ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সড়কে মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আনন্দ-উল্লাসের মাধ্যমে তাঁকে বিদায় জানায়। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন দেখতে সড়কের পাশে উৎসুক মানুষ ভিড় করে দাঁড়ান।
বিদায় অনুষ্ঠানে আব্দুস সালাম পাল আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর এমন ভালোবাসা আমি কোনো দিন ভুলব না। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই স্মৃতি মনে থাকবে।’