মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার চরদৌলতখান ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজ সোমবার (১১ মে) দুপুরে অর্ধশতাধিক জেলে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাঁরা অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রকৃত কার্ডধারী জেলেদের মাঝে দ্রুত চাল বিতরণের দাবি জানান।
জেলেরা অভিযোগ করেন, প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের আত্মীয়স্বজন ও তাঁর সমর্থিত লোকজনের নামে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকৃত ভুক্তভোগী জেলেরা বঞ্চিত হয়েছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জেলে দেলোয়ার কবিরাজ, মাইনউদ্দীন সরদার, সামচুল হাওলাদার, রেজাউল কবিরাজ, শহিদুল কবিরাজ, ইয়াসিন হাওলাদারসহ একাধিক জেলে জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্যসহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁরা চাল পাননি। অথচ যাঁরা পেশাগতভাবে জেলে নন, এমন ব্যক্তিদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জেলেরা বলেন, ‘আমরা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ আমাদের প্রাপ্য চাল না দিয়ে চেয়ারম্যানের লোকজনকে দেওয়া হয়েছে।’
অভিযুক্ত কালকিনির চরদৌলতখানের (সিডি খান) ইউপি চেয়ারম্যান চাঁন মিয়া শিকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্বজনপ্রীতির কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রকৃত জেলেরাই চাল পেয়েছেন।
কালকিনি উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা প্রণব কুমার দত্ত বলেন, ‘কার্ডধারী জেলেরা চাল পাননি—এমন অভিযোগ আমার জানা নেই।’
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মিজ মর্জিনা আক্তার বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। যদি অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রকৃত কার্ডধারী জেলেরা যাতে তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করা হবে।