মাদারীপুরের শিবচরে টানা বৃষ্টিতে পৌর এলাকাসহ পাঁচ্চর, মাদবরের চর, দত্তপাড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। খাল-পুকুর ও জলাশয় ভরাট, পানি প্রবাহের পথ বন্ধ, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার ঘাটতিতে সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে শিবচর পৌর এলাকার বেশ কিছু এলাকা, পাঁচ্চর, মাদবরের চর, দত্তপাড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে পানি জমে আছে। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেও বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও পরিস্থিতি বন্যার মতো রূপ নিয়েছে বলেও জানান বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে জলাশয় ভরাট করে বাড়ি ও মার্কেট নির্মাণের প্রবণতা বেড়েছে। পানি প্রবাহের জন্য থাকা খালগুলোর অনেকগুলোই রাস্তা নির্মাণের কারণে বন্ধ বা ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ছে। টানা বৃষ্টিতে অনেক স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে থাকে এবং রোদ ওঠার পরও পানি নামতে কয়েকদিন সময় লাগে।
উপজেলার পাঁচ্চর ও সংলগ্ন মাদবরের চর ইউনিয়নের ডাইয়ার চর এবং পাঁচ্চর বাজারসংলগ্ন এলাকায় গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে অসংখ্য বাড়িঘর ডুবে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত দুই শতাধিক পরিবার সেখানে দুর্ভোগে রয়েছে। বেশির ভাগ ঘরে পানি উঠেছে, উঠান তলিয়ে গেছে আগেই। পানি সরে যাওয়ার পথ না থাকায় টানা কয়েকদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এখানকার বাসিন্দারা।
ওই এলাকার বাসিন্দারা বলেন, চারপাশে নতুন রাস্তা তৈরি হয়েছে গত ৫-৬ বছর ধরে। জলাশয় যা ছিল তা বালু দিয়ে ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে স্থাপনা। একমাত্র ড্রেনটিও বন্ধ। ফলে পানি কোথাও সরতে পারছে না। টানা বৃষ্টিতে এখন ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে। পানি কমতে থাকলেও কাদাপানি থাকে দীর্ঘদিন। এ অবস্থায় তারা এক প্রকার মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
ভুক্তভোগী অনামিকা কর্মকার বলেন, `৫ বছর ধরে এই অবস্থা চলছে। প্রতিবছর বৃষ্টি হলেই পানিবন্দী হয়ে পড়ি। এবার টানা বৃষ্টিতে ঘরের মধ্যে পানি উঠে গেছে!'
স্থানীয় বাসিন্দা বাসুদেব সাহা বলেন, `চারপাশ ভরাট হয়ে গেছে। পানি প্রবাহের কোনো পথই আর খোলা নাই। আমরা পড়েছি চরম বিপদে। আমরা এর প্রতিকার চাই।'
মাদবরের চর ইউনিয়নের ডাইয়ার চরসহ পুরাতন কাওড়াকান্দি ঘাটসংলগ্ন এলাকার বেশ কিছু স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির পানি আটকে থাকে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুকুর ও খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি নামলেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলার সূর্যনগর এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, `ভারী বৃষ্টি হলেই দোকানের সামনে পানি জমে যায়। আগে বৃষ্টির পানি আশেপাশের খাল-জলাশয়ে যেতো। কিন্তু সেসব স্থান ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি আটকে থাকছে দীর্ঘ সময়।'
স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, `সূর্য্যনগর বাজারে আগে ভালো ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছিল। সম্প্রতি ড্রেনের শেষ প্রান্তে নতুন কিছু ভবন তৈরি করার ফলে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। তা ছাড়া নতুন বিল্ডিং যারা তৈরি করেছেন, তারাও ড্রেনেজের জন্য কোন জায়গা রাখেন নি। এ কারণেই কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এভাবেই একসময় প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটতে পারে!'
গত সপ্তাহে পাঁচ্চর এলাকার পানিবন্দী এলাকা পরিদর্শন করেছেন শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান। এ সময় পানিবন্দী পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না তা দেখছি।'