শোকস্তব্ধ পরিবেশ এখন পুরো চর গোবিন্দপুর গ্রামে। বৃষ্টির মরদেহ পৌঁছানোর খবরে দলে দলে মানুষ ছুটে আসছে তাঁদের বাড়িতে। সবার চোখেমুখে অব্যক্ত বেদনার ছাপ। আজ শনিবার বেলা দেড়টার দিকে বৃষ্টির মরদেহ মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের নিজ গ্রামে এসে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর মা-বাবাসহ স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
এর আগে সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। বেলা দেড়টার দিকে বাড়িতে পৌঁছালে বৃষ্টিকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও গ্রামবাসী।
এদিকে বাড়িতে চলছিল শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি। কবর খোঁড়ার কাজও সম্পন্ন করা হয়।
স্বজনেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি ও তাঁর পরিবার ঢাকায় বসবাস করলেও গ্রামের বাড়ির সঙ্গে ছিল তাঁর গভীর সম্পর্ক। ছুটি পেলে তিনি বাড়িতে আসতেন। ছোটবেলা থেকে মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের হওয়ায় এলাকায় সবার কাছে প্রিয় ছিলেন তিনি।
পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আসরের নামাজের পর চর গোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন। পরে ফুল স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করতে যান।
গত ১৭ এপ্রিল বৃষ্টি ও আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন নিখোঁজ হন। পরে তাঁদের হত্যার ঘটনা সামনে আসে। এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ।
স্বজন ও এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।
নিহত বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।’