লালমনিরহাট-ঢাকা রেলপথে ‘বুড়িমারী কমিউটার’ ট্রেনের ইঞ্জিন মাঝপথে বিকল হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে প্রায় ৪ ঘণ্টা পর ইঞ্জিন ঠিক করা হলে চলাচল স্বাভাবিক হয়। এই সময়ে লালমনিরহাট ও রংপুরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন এই রুটে চলাচলকারী সকল ট্রেনের যাত্রীরা।
আজ রোববার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে এবং বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এই দিন সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশন থেকে ৬৬ নম্বর বুড়িমারী কমিউটার ট্রেন যাত্রী নিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। প্রায় ১০ মিনিট চলার পর ট্রেনটির ২৩০৫ নম্বর ইঞ্জিনটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় ট্রেনের চালক, পরিচালক ও অন্যান্য স্টাফরা (কর্মকর্তা-কর্মচারী) মিলে ইঞ্জিন সচল করার চেষ্টা করতে থাকেন। দীর্ঘসময় চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। পরে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের প্রকৌশল বিভাগ ও লোকোমোটিভ কারখানা (ইঞ্জিন) কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এ ঘটনার খবর পেয়ে রেল কর্তৃপক্ষ ২৪০৭ নম্বর একটি সচল লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) পাঠায়। ইঞ্জিনটি ঘটনাস্থল পৌঁছে অচল ইঞ্জিনসহ ট্রেনটিকে টেনে পাটগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যায়।
বুড়িমারী উফারামারা গ্রামের যাত্রী মাহাবুব আলম বলেন, ‘রোগীর (নারী) চিকিৎসার জন্য রংপুরে নিয়ে যাচ্ছিলাম পথে ট্রেনের ইঞ্জিন অচল হয়ে যায়। রোগী নিয়ে সমস্যায় পড়েছি। অটোরিকশা বা ইজিবাইকে করে ভেঙে ভেঙে রংপুর যেতে হবে।’
বুড়িমারী কমিউটার ট্রেনের পরিচালক মতিউর রহমান বলেন, ‘ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটি হয়েছে।’
ট্রেনের লোকোমোটিভ মাস্টার (চালক) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। অনেক চেষ্টা করেও চালু করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনা লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। সচল ইঞ্জিন এনে অচল ট্রেনটি টেনে পাটগ্রামে নেওয়া হয়েছে। রেল যোগাযোগ এখন স্বাভাবিক হয়েছে।’
পাটগ্রাম ও বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার নুর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘লালমনিরহাট থেকে সচল একটি ইঞ্জিন এনে বিকল ইঞ্জিনটিসহ ট্রেনটি পাটগ্রামে আনা হয়েছে। বুড়িমারী কমিউটার ট্রেনটি প্রায় ৪ ঘণ্টা বিলম্বে ৩টা ২০ মিনিটের দিকে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এখন রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক আছে।’