হোম > সারা দেশ > লালমনিরহাট

দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

লালমনিরহাট প্রতিনিধি 

প্রতীকী ছবি

লালমনিরহাটে সরকারি আদিতমারী জিএস উচ্চবিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা তদন্তে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

অভিযুক্ত শিক্ষকেরা হলেন সরকারি আদিতমারী জিএস উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (তথ্যপ্রযুক্তি) জাহিদ ইমাম শান্ত ও একই প্রতিষ্ঠানের ভোকেশনাল শাখার সহকারী শিক্ষক (টেকনিক্যাল) নারায়ণ চন্দ্র।

অভিযোগে জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আদিতমারী জিএস মডেল উচ্চবিদ্যালয়টি ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর জাতীয়করণ করে সরকার। এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় সব পাবলিক পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়। তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক জাহিদ ইমাম শান্তর বাসা প্রতিষ্ঠানের কাছেই। সেখানে প্রতিদিন এ প্রতিষ্ঠানসহ পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট পড়ে। প্রাইভেট পড়তে যাওয়া নিজ প্রতিষ্ঠানের ভোকেশনাল শাখার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন শিক্ষক শান্ত। তাঁর স্ত্রী-সন্তান বাড়িতে না থাকলেই ওই ছাত্রীকে ভয়ভীতি আর নম্বর বেশি দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।

অপর দিকে প্রতিষ্ঠানের পাশে রুম ভাড়া নিয়ে প্রাইভেট পড়ান ভোকেশনাল শাখার সহকারী শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র। তিনি সেখানে পড়তে যাওয়া ওই প্রতিষ্ঠানের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে ওই ছাত্রী বিষয়টি বাড়িতে জানালে তারা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রথমে মৌখিক পরে গত ১৪ জুন লিখিত অভিযোগ করে।

এ ঘটনা জানাজানি হলে জাহিদ ইমাম শান্তর কাছে ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থী পরের দিন ১৫ জুন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ করে। দুটি ঘটনাই কিছু দিন গোপন থাকলেও ১৭ জুন প্রকাশ পায়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষকদের শোকজ করলেও জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাঁদের ২৫ জুন পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায়। এ ঘটনা তদন্তে ১৭ জুন তিন সদস্য করে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

অভিযুক্ত শিক্ষক জাহিদ ইমাম শান্ত বলেন, ‘আমি ভোকেশনাল শাখার ক্লাস বা প্রাইভেট কোনোটাই পড়াই না। যে শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে, সে আমার প্রাইভেটেও আসে না। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে একটি চক্র ওই ছাত্রীকে দিয়ে ফাসিয়ে দিয়েছে।’

জানতে অভিযুক্ত ভোকেশনাল শাখার সহকারী শিক্ষক (টেকনিক্যাল) নারায়ণ চন্দ্রকে ফোন দিলে বন্ধ পাওয়া যায়।

সরকারি আদিতমারী জিএস উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত আরা সিদ্দিকা বলেন, ‘মৌখিকের পরে লিখিত অভিযোগ পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বাধ্যতামূলক ছুটিতে রাখা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত আতঙ্ক কাটিয়ে শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় অভিভাবকদের নিয়ে ফোনে কাউন্সেলিং করা হচ্ছে।’

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, ‘এমন কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

বিদ্যালয়টির সভাপতি আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজা বেগম বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তদন্ত কমিটি করেছেন। সরকারি বিদ্যালয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের। তদন্ত প্রতিবেদন এলে প্রধান শিক্ষক আমাকে অবগত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। তারা ব্যবস্থা নেবে।’

একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর কর্মকর্তা-কর্মচারী, পাটগ্রাম এলজিইডিতে অনিয়ম-দুর্নীতির মহোৎসব

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ডাকাতিসহ ১১ মামলায় অভিযুক্ত বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

আন্দোলন হয় তিস্তায়, কিন্তু বাজেট যায় পদ্মায়: এমপি সালেহী

পাটগ্রাম সীমান্তে আবারও পুশ ইনের চেষ্টা বিএসএফের, ঠেকাল স্থানীয় জনতা ও বিজিবি

দ্রুত চার্জশিট দিয়ে নন্দিনী হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করা হবে: ত্রাণমন্ত্রী

পাটগ্রামে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন, প্রতিবাদে মানববন্ধন

শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় রণক্ষেত্র আদিতমারী: এসপি ওসিসহ আহত ২০

ভুট্টাখেত থেকে ৭ বছরের শিশুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত, ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ

আদিতমারীতে লাদেন হত্যা মামলায় বাবা-ছেলের আত্মসমর্পণ