লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহম্মেদের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রার্থীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। প্রতিবাদে কয়েক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন তাঁর নেতা-কর্মীরা। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাতীবান্ধা উপজেলার জোড়াপুকুর এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্বাচনী প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে জোড়াপুকুর এলাকায় পৌঁছালে একদল দুষ্কৃতকারী শিহাব আহম্মেদের গাড়িবহর লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় প্রার্থীর ব্যক্তিগত গাড়িটি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহম্মেদসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ভোরে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন প্রার্থী শিহাব আহম্মেদ।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
পরে হাতীবান্ধা থানা-পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আহত স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা শেষ করে ফিরছিলাম। কিন্তু জোড়াপুকুর এলাকায় পৌঁছানো মাত্রই আমাদের ওপর পরিকল্পিত ও কাপুরুষোচিত হামলা চালানো হয়েছে। আমার গাড়ি ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমাদের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। মাঠের পরিস্থিতি যদি এমন অস্থিতিশীল হয়, তবে সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে যাওয়ার সাহস হারাবে। এই অবস্থায় আদৌ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব কি না, তা নিয়ে আমি গভীর শঙ্কা প্রকাশ করছি।’
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমরা প্রার্থীর কাছে গিয়েছি এবং তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছি। বর্তমানে পরিবেশ আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই হামলার ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’